তালিবানের সঙ্গে চুক্তি, দিল্লিতে ঐতিহাসিক সফর

আফগানিস্তানের অভিযোগী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাওলানা আমির খান মুত্তাকি মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে পৌঁছে ভারতের উষ্ণ স্বাগত জানানোর মধ্য দিয়ে একটি ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক সফরের সূচনা করেছেন। এটি ২০২১ সালের আগস্টে তালেবানের কাবুল দখলের পরপরিবর্তে আফগানিস্তান থেকে ভারতে প্রথম উচ্চপর্যায়ের সফর। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল স্পোকসপারসন রণধীর জৈসওয়াল তাঁর এক্স পোস্টে লিখেছেন, “আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাওলানা আমির খান মুত্তাকির নয়াদিল্লিতে আগমনের উপলক্ষে উষ্ণ স্বাগত জানাই। আমরা তাঁর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে গভীর আলোচনার প্রত্যাশা করছি।”

সফরটি ৯ থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এবং এর মূল আলোচ্য বিষয় হিসেবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন, বাণিজ্য বিনিময়, শুকনো ফলের রপ্তানি, স্বাস্থ্য খাতে সুবিধা প্রদান এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মুত্তাকি মস্কো ফরম্যাট আলোচনায় অংশগ্রহণ করে রাশিয়া থেকে সরাসরি নয়াদিল্লিতে আসেন, যেখানে ভারত, চীন, পাকিস্তান, ইরানসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কমিটির বিশেষ ছাড়ের মাধ্যমে এই ভ্রমণ সম্ভব হয়েছে, কারণ মুত্তাকির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই ছাড়টি ৯ থেকে ১৬ অক্টোবরের জন্য প্রদান করা হয়েছে। ভারত এখনও তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি, কিন্তু বাস্তববাদী নীতির অধীনে মানবিক সাহায্য, গম রপ্তানি এবং কাবুলে দূতাবাস পুনরায় চালু করে সম্পর্ক অটুট রেখেছে। জানুয়ারি ২০২৫-এ দুবাইতে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব ভিক্রম মিস্রির সঙ্গে সাক্ষাতে তালেবান ভারতকে আঞ্চলিক অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

পটভূমি ও আলোচনার প্রেক্ষাপট

২০২১ সালের তালেবান ক্ষমতায় আসার পর ভারত-আফগানিস্তান সম্পর্কে একটি নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। ভারত আগে থেকে আফগানিস্তানের অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ করেছে, যার মধ্যে সালমা বাঁধ, পার্লামেন্ট ভবন নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত। সাম্প্রতিককালে পাকিস্তান-আফগানিস্তানের উত্তেজিত সম্পর্কের কারণে ভারতের জন্য এটি একটি কৌশলগত সুযোগ তৈরি করেছে। ইসলামাবাদ এই সফর নিয়ে উদ্বিগ্ন, কারণ এটি তালেবানের পাকিস্তানের উপর নির্ভরতা কমানোর সংকেত।

আলোচনায় তালেবান সম্ভবত নয়াদিল্লিতে অফিসিয়াল দূত নিয়োগের অনুমতি এবং আফগান দূতাবাসে কার্যক্রম বাড়ানোর বিষয় তুলে ধরবে। এছাড়া, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, আতঙ্কবাদ দমন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা যেমন শুকনো ফল রপ্তানি (যা আফগানিস্তানের একটি প্রধান রপ্তানি পণ্য) নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

ভারতের কৌশলগত পদক্ষেপ

এই সফর ভারতের ‘নেবারহুড ফার্স্ট’ নীতির অংশ, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি তালেবানের আন্তর্জাতিক বৈধতা বাড়ানোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এবং পাকিস্তান-প্রভাবিত আঞ্চলিক গতিবিধিতে ভারতের ভূমিকা শক্তিশালী করবে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আলোচনা ‘আফগানিস্তানের মানুষের কল্যাণ’ কেন্দ্রিক হবে, যাতে মানবাধিকার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনের বিষয়ও উঠে আসতে পারে।

এক্স-এর রিপ্লাইগুলোতে ভারতীয় ও আফগান ব্যবহারকারীরা এই সফরকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। একজন লিখেছেন, “আফগানিস্তান ভারত”, অন্যরা বলছেন, “পাকিস্তান কাঁদুক আরও!” এই সফর দুই দেশের মধ্যে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে দিতে পারে।

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.