শীতের প্রথম ঠান্ডা হাওয়ায় কলকাতা শহর আজ সকাল থেকেই এক অদ্ভুত শীতলতায় ঢেকে গেছে। আলিপুরের ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুসারে, আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমেছে, যা গত কয়েকদিনের তুলনায় প্রায় ২ ডিগ্রি কম। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকবে বলে পূর্বাভাস। শহরের রাস্তায় সকালে হালকা কুয়াশার পর্দা পড়েছে, যা যানজমা এবং দূরদর্শনকে কিছুটা প্রভাবিত করেছে।
আবহাওয়া অফিসের পরিমণ্ডলীয় প্রধান বলেছেন, “উত্তর-পশ্চিমের শীতল বাতাসের প্রভাবে এই পরিবর্তন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) পর্যন্ত তাপমাত্রার তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য হেরফের নেই, তবে শুক্রবার থেকে সামান্য উত্থান হতে পারে। উইকেন্ডে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের কাছাকাছি ফিরে আসবে।” দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলাগুলোতেও একই পরিস্থিতি—হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা সহ বীরভূম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়ায় মিনিমাম তাপমাত্রা ১৭-১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রেকর্ড হয়েছে। উত্তরবঙ্গে, বিশেষ করে দার্জিলিং-এ, তাপমাত্রা ৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে গেছে, যা শীতের আগমনের স্পষ্ট সংকেত।
আকাশে আংশিক মেঘাচ্ছন্নতা থাকলেও বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই। বাতাসের গতি ১০-১৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টার মধ্যে থাকবে, যা শুষ্ক আবহাওয়া বজায় রাখবে। তবে, শহরের বায়ুর গুণমান এখনও উদ্বেগজনক—এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) ১৬৬-এর কাছাকাছি রয়েছে, যা ‘মাঝারি’ থেকে ‘খারাপ’ের মধ্যবর্তী। যানজম-প্রবণ এলাকায় মাস্ক পরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে শ্বাসকষ্টগ্রস্তদের জন্য।
স্থানীয়রা এই হঠাৎ ঠান্ডায় অভ্যস্ত হতে শুরু করেছেন। এক চা-দোকানের মালিক বললেন, “সকালে বেরোতে গিয়ে শিউর শিউর করে উঠলাম, কিন্তু এই ঠান্ডায় চায়ের স্বাদ বাড়ে!” ট্রাফিক পুলিশের এক কর্মী জানান, কুয়াশার কারণে সকালের ট্রাফিক কিছুটা ধীরগতি হয়েছে, তবে বড় কোনো জটিলতা নেই। আইএমডি-এর সাম্প্রতিক টুইটে উত্তরবঙ্গের ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়া সারাংশও শেয়ার করা হয়েছে, যাতে শুষ্ক আবহাওয়ার উল্লেখ আছে।
আগামী কয়েকদিনের পূর্বাভাস অনুসারে, ২৬ নভেম্বর মঙ্গলবারও একই রকম আবহাওয়া থাকবে—সর্বনিম্ন ১৭ ডিগ্রি, সর্বোচ্ছ ২৮ ডিগ্রি। নাগরিকদের পরামর্শ: হালকা গরম কাপড়, বিশেষ করে সকাল-সন্ধ্যায় ব্যবহার করুন এবং বায়ু দূষণ থেকে সুরক্ষিত থাকুন। আরও আপডেটের জন্য আইএমডি-এর অফিসিয়াল সাইট চেক করুন।


