এ প্রকাশিত খবর অনুসারে, ভারত সরকারের ২০২৬-২৭ বাজেটে ঘোষণা করা হয়েছে যে, পূর্ব ভারতের দাঁকুনি (পশ্চিমবঙ্গ) থেকে পশ্চিম ভারতের সুরাট (গুজরাট) পর্যন্ত একটি নতুন ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডর (Dedicated Freight Corridor বা DFC) তৈরি করা হবে। এই করিডরের দৈর্ঘ্য প্রায় ২,০৫২ কিলোমিটার এবং এটি ছয়টি রাজ্যের মধ্য দিয়ে যাবে: পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, ছত্তীসগঢ়, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র এবং গুজরাট।
বর্তমানে কলকাতা থেকে সুরাট পর্যন্ত মালগাড়ি যাতায়াত করতে ১,৮৫০-১,৯০০ কিমি পথ অতিক্রম করে ৩০-৩৩ ঘণ্টা লাগে, যাতে যাত্রীবাহী ট্রেনের কারণে প্রায়ই বিলম্ব হয়। নতুন এই ডেডিকেটেড করিডর চালু হলে মাল পরিবহনের সময় প্রায় অর্ধেক হয়ে যাবে এবং ট্র্যাকগুলোতে যাত্রী ট্রেনের সঙ্গে মালগাড়ির সংঘর্ষ কমবে।
এই প্রকল্পের ফলে দাঁকুনি একটি গ্লোবাল লজিস্টিক হাবে পরিণত হবে এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করবে। বাংলার ধানক্ষেতের চাল গুজরাটের হীরা ও টেক্সটাইল মার্কেটে সহজে পৌঁছাবে। বাংলার কারিগররা সুরাট থেকে হীরা-জুয়েলারি সামগ্রী সংগ্রহ করতে পারবেন, আবার কলকাতার গার্মেন্টস উৎপাদকরা সুরাটের ব্যবসা ও টেক্সটাইল হাবের সঙ্গে যুক্ত হয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য পৌঁছে দিতে পারবেন।
রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, এই করিডর পূর্ব ও পশ্চিম ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ভারতের লজিস্টিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। এছাড়া বাজেটে সাতটি নতুন হাই-স্পিড রেল করিডরেরও ঘোষণা করা হয়েছে, যার মধ্যে একটি বারাণসী-শিলিগুড়ি।
এই উদ্যোগ পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতিকে বুস্ট দেবে এবং পূর্ব ভারতকে দেশের লজিস্টিক মানচিত্রের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসবে।


