হরমুজ প্রণালী বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেলের রুট। ইরান সম্প্রতি সেখানে সামরিক মহড়া চালিয়ে এই পথ সাময়িক বন্ধ রাখে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে শঙ্কা তৈরি করেছে।
কোথায় এই প্রণালী?
এটি ইরান ও ওমানের মাঝে অবস্থিত একটি ৩৩ কিমি সরু জলপথ। উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে তেল ও গ্যাস বাইরের বিশ্বে পাঠানোর একমাত্র সামুদ্রিক পথ এটি।
কতটা জ্বালানি যায় এই পথে?
- প্রতিদিন ২ কোটি ব্যারেল তেল যায় (বিশ্বের চাহিদার ২০%)
- বছরে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হয়
- বিশ্বের তরল গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ যায় এই পথে
সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল কারা?
- চীন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া – এশিয়ার এই দেশগুলো যায় ৮৪% তেল ও ৮৩% গ্যাস
- ভারতের ৬০% গ্যাস ও অর্ধেক তেল আসে এই পথে
- জাপানের ৭৫% ও দক্ষিণ কোরিয়ার ৬০% তেল আসে হরমুজ দিয়ে
ইরানের কী কী অপশন আছে?
- আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, ইরানের উপকূল থেকে ২২ কিমি পর্যন্ত এলাকা তার নিয়ন্ত্রণে
- দ্রুতগতির নৌকা, মাইন ও সাবমেরিন দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা দিতে পারে ইরান
- ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরাও লোহিত সাগরে বাব এল-মান্দেব প্রণালী বন্ধ করে ঝুঁকি বাড়াতে পারে
প্রভাব কী পড়তে পারে?
- তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়াতে পারে (এখন ৮০-৯০ ডলারের ঘরে)
- মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে বিশ্বজুড়ে – জ্বালানি খরচ বেড়ে পণ্যের দাম বাড়বে
- দুবাইয়ের পর্যটন ও সৌদি আরবের বিশাল উন্নয়ন প্রকল্পে বিনিয়োগ কমতে পারে
সংক্ষেপে বললে, এই সরু জলপথ বন্ধ হলেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম লাফিয়ে বাড়বে, যা সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বড় অর্থনীতি সবাইকেই বিপদে ফেলবে।

