কলকাতা, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গে আলুর বাজারে একটা অদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একদিকে রেকর্ড ফলনের জন্য চাষিরা লোকসানের মুখে পড়ছেন, অন্যদিকে কিছু কারণে আলুর দাম আবার বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কলকাতার খুচরো বাজারে এখন আলু কেজি প্রতি ১৩-১৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে (পোখরাজ বা S1 জাত ১৩-১৪ টাকা, ভালো জাত ১৬-১৭ টাকা), পাইকারি বাজারে (যেমন শিয়ালদহ কোলে মার্কেট) ৭-১০ টাকা কেজি। কিন্তু এই সস্তা দামের পিছনে লুকিয়ে আছে একটা বড় ঝুঁকি, যা শীঘ্রই দাম বাড়িয়ে দিতে পারে।
আসল কারণটা কী?
এবারের রবি মরসুমে পশ্চিমবঙ্গে আলুর ফলন অস্বাভাবিকভাবে বেশি হয়েছে। কৃষি দফতরের দাবি অনুযায়ী, গত বছরের ১৪৬ লক্ষ মেট্রিক টনের তুলনায় এবার আরও বেশি উৎপাদন হয়েছে। হুগলি-সহ বিভিন্ন জেলায় রেকর্ড ফলনের খবর এসেছে, হেক্টর প্রতি ৩০ টন ছাড়িয়েছে কোথাও কোথাও। ফলে বাজারে আলুর যোগান প্রচুর, চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি। এতে চাষিরা কম দামে আলু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন—পাইকারিতে কুইন্টাল প্রতি ৬০০-৯০০ টাকার মধ্যে ঘুরছে দাম, যা সরকারের ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের (৯০০ টাকা) নীচে।
কিন্তু এখানেই অবাক করা ব্যাপার! এই অতিরিক্ত ফলনের জন্য হিমঘরে (কোল্ড স্টোরেজ) প্রায় ৭২ লক্ষ মেট্রিক টন আলু মজুত রয়েছে। চাষি ও ব্যবসায়ীরা লোকসান এড়াতে দ্রুত বিক্রি করতে চাইছেন না। অন্যদিকে, বাংলাদেশের অস্থিরতা ও রপ্তানি কমে যাওয়ায় (যা আগে বড় বাজার ছিল), ওড়িশা-আসামের মতো অন্য রাজ্যের চাহিদাও কমেছে। ফলে স্থানীয় বাজারে চাপ বাড়ছে।
দাম বাড়ার সম্ভাবনা কেন?
- সরকারের তৎপরতা: গত বছর আচমকা দাম বেড়ে যাওয়ায় এবার থেকেই সরকার সতর্ক। ন্যায্যমূল্যে জোগান রাখতে সহায়ক মূল্যে কেনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু যদি মজুত আলু বাজারে না ছাড়া হয় বা চাষিরা স্টোরেজে রেখে দেন, তাহলে যোগান কমে দাম উঠতে পারে।
- মরসুমী প্রভাব: শীত শেষ হলে পুরনো আলুর স্টক কমতে শুরু করে, নতুন আলু মাঠ থেকে উঠলেও—যদি ফলনের কোনো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা বাজারে কম আসে—দাম চড়তে পারে।
- ব্যবসায়ীদের কৌশল: কিছু ইউনিটে দাম বস্তা প্রতি ৫০-১০০ টাকা বেড়েছে বলে খবর। রপ্তানি খুললে বা চাহিদা বাড়লে দাম আরও উঠবে।
বর্তমানে কলকাতায় সাধারণ মানুষ সস্তায় আলু কিনছেন, কিন্তু চাষিরা লোকসান গুনছেন। সরকার চাইছে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে, কিন্তু যদি যোগান-চাহিদার ভারসাম্য নষ্ট হয়, তাহলে দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে মাঠ থেকে আরও আলু উঠলে পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে।

