মহারাষ্ট্রের পালঘর জেলার তরাপুর এমআইডিসি-তে ভাগারিয়া কেমিক্যাল কোম্পানি (ভাগেরিয়া ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড) থেকে সালফার ট্রাইঅক্সাইড (এসও₃) গ্যাস লিক হয়েছে, যা ৩-৪ কিলোমিটার এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনায় চোখের জ্বালা, কাশি এবং শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। কর্তৃপক্ষের তরফে ২,৬০০-এরও বেশি লোককে উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে ১,৬০০ জন স্কুলছাত্র রয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
ঘটনাটি ঘটেছে ২ মার্চ বিকেল ২টা নাগাদ। কোম্পানির একটি ইউনিট থেকে ওলিয়াম (ফিউমিং সালফিউরিক অ্যাসিড) গ্যাস লিক হয়, যা এসও₃-এর সঙ্গে সালফিউরিক অ্যাসিডের মিশ্রণ। প্রবল বাতাসের কারণে ঘন সাদা ধোঁয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা ৫ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকায় প্রভাব ফেলেছে। স্থানীয়রা চোখের জ্বালা, কাশি এবং শ্বাসকষ্টের অভিযোগ করেছেন। তিনজনের সামান্য চোখের সমস্যা দেখা গেছে, তবে কোনো মৃত্যু বা গুরুতর আঘাতের খবর নেই। ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, ঘন ধোঁয়ায় ঢাকা রাস্তায় হেলমেট পরা শ্রমিকরা মুখ ঢেকে দৌড়াচ্ছেন বা হাঁটছেন। এনডিটিভি-র লোগো সহ এই ভিডিওতে স্পষ্ট যে, দৃশ্যমানতা খুব কম এবং লোকজন আতঙ্কিত।
কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া
পালঘরের পুলিশ সুপার যতীশ দেশমুখ জানিয়েছেন, “ফায়ার ব্রিগেড, জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ লিকের উৎস নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে। আতঙ্কিত হবেন না।” জরুরি দলগুলো এলাকা খালি করিয়েছে, যার মধ্যে তরাপুর বিদ্যামন্দির স্কুলের ১,৬০০ ছাত্রও রয়েছে। লিকটি ৩ ঘণ্টার মধ্যে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং এলাকা স্বাভাবিক হয়েছে বলে জানা গেছে। বাতাসের গুণমান পর্যবেক্ষণ চলছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে।
এলাকার ইতিহাস এবং উদ্বেগ
তরাপুর এমআইডিসি-তে এরকম ঘটনা নতুন নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নাইট্রোজেন লিক, বিস্ফোরণ এবং মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়রা শিল্প নিরাপত্তার অভাব নিয়ে অভিযোগ করেছেন। ফ্যাক্ট-চেকার মহম্মদ জুবায়েরের এক্স পোস্টে এই ঘটনা প্রথম প্রকাশ পায়, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অনেকে ভারতের শিল্প নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, বলছেন “ভারত সবচেয়ে নিরাপদ দেশ” বলে দাবি করা হলেও এরকম ঘটনা ঘনঘন ঘটছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসও₃ একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক গ্যাস, যা ওলিয়ামের মূল উপাদান। এটি বাতাসে মিশে সালফিউরিক অ্যাসিড মিস্ট তৈরি করে, যা শ্বাসযন্ত্র এবং চোখের ক্ষতি করে। এমআইডিসি, এমপিসিবি এবং ডিআইএসএইচ-এর তরফে কঠোর নিরাপত্তা অডিটের দাবি উঠেছে।
প্রভাব এবং পরামর্শ
এই লিকের কারণে স্থানীয় স্কুল, বাসস্থান এবং কারখানা খালি করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের পরামর্শ: আতঙ্কিত না হয়ে মাস্ক পরুন, চোখ ধুয়ে নিন এবং চিকিত্সা নিন যদি সমস্যা হয়। তদন্ত চলছে এবং কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এই ঘটনা ভারতের শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। সর্বশেষ আপডেটের জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।


