ইরানি কুর্দ নেতা বাবাশেখ হোসেইনি, যিনি ইরাকের উত্তরাঞ্চলের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থিত খাবাত সংগঠন অফ ইরানিয়ান কুর্দিস্তানের সেক্রেটারি-জেনারেল, আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন যে ইরানের ভেতরে একটি স্থল অভিযান চালানোর সম্ভাবনা খুবই উচ্চ। তিনি জানিয়েছেন, এখনও কোনো অভিযান শুরু হয়নি, তবে দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা চলছে এবং বর্তমান পরিস্থিতি অনুকূল হওয়ায় অ্যাকশনের সম্ভাবনা শক্তিশালী। আমেরিকা তাদের সাথে যোগাযোগ করেছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন, যদিও সরাসরি কোনো বৈঠক হয়নি।
এই সম্ভাব্য অভিযানের পটভূমিতে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সাথে ইরানের চলমান যুদ্ধ, যা এখন দ্বিতীয় সপ্তাহে পা দিয়েছে। ইসরায়েল পশ্চিম ইরানে বোমা হামলা চালিয়ে ইরানি কুর্দ যোদ্ধাদের সমর্থন করছে। এর মধ্যে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে এবং হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ইরানের ভূখণ্ডের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিলে তাদের চূর্ণ করে দেওয়া হবে।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানি এবং কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকারের প্রেসিডেন্ট নেচিরভান বারজানি ফোনালাপে একমত হয়েছেন যে ইরাকি ভূখণ্ডকে প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে হামলার লঞ্চিং প্যাড হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেছেন, প্রতিবেশীদের ওপর হামলা বন্ধ করা হবে যদি না সেখান থেকে আক্রমণ আসে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কুর্দরা সীমান্ত অতিক্রম করলে তা “আশ্চর্যজনক” হবে এবং তিনি এর পক্ষে।
এই পরিস্থিতিতে ইরানি কুর্দ গোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ দেখছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ও যোগাযোগের পর। তবে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এই ধরনের অভিযান চলমান যুদ্ধকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং ইরাক-ইরান সীমান্তে উত্তেজনা বাড়াতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক সংঘাতকে নতুন মাত্রা দিতে সক্ষম।




