প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর প্রতি ‘লজ্জাজনক ও নজিরবিহীন’ আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যায় এক্স-এ (পূর্বতন টুইটার) পোস্ট করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি যিনি নিজে আদিবাসী সম্প্রদায় থেকে উঠে এসেছেন, তাঁর প্রকাশিত দুঃখ ও উদ্বেগ দেশের মানুষের মনে গভীর বেদনা সৃষ্টি করেছে। মোদী অভিযোগ করেন যে, তৃণমূল সরকার সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করেছে এবং রাজ্য প্রশাসন এই অসম্মানের জন্য দায়ী। তিনি সাঁওতাল সংস্কৃতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে হালকাভাবে নেওয়ারও নিন্দা করেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতে ৯ম আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে। মূল ভেন্যুতে অনুমতি না মেলায় সম্মেলন বাগডোগরা বিমানবন্দরের মাঠে স্থানান্তরিত হয়, যেখানে উপস্থিতি কম ছিল এবং অনেক চেয়ার খালি পড়ে ছিল। রাষ্ট্রপতি মুর্মু প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “দিদির (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) আমার প্রতি এত রাগ কেন? আমিও বাংলার মেয়ে। এখানে ৫ লক্ষ লোক আসতে পারে, কিন্তু বলা হচ্ছে জায়গা নেই।” তিনি আদিবাসী সম্প্রদায়ের উন্নয়ন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং বলেন, সরকারি সুবিধা পাচ্ছে কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধর্মতলার ধর্না মঞ্চ থেকে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, রাষ্ট্রপতিকে সম্মান করা হয় কিন্তু বিজেপি তাঁকে রাজনীতির হাতিয়ার করছে। তিনি বলেন, “আপনি বিজেপির ফাঁদে পড়েছেন।” তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, শিক্ষা শ্রী, জয় জোহরের মতো প্রকল্পে আদিবাসীদের জন্য অনেক সুবিধা দেওয়া হচ্ছে এবং রাষ্ট্রপতির ধারণা ভুল। মমতা আরও বলেন, মণিপুরসহ অন্য রাজ্যে আদিবাসীদের উপর অত্যাচার হলে কেন চুপ থাকা হয়, শুধু বাংলাকে টার্গেট করা হচ্ছে।
এই ঘটনা কেন্দ্র-রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং আদিবাসী উন্নয়নের প্রশ্নকে সামনে এনেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী আশা প্রকাশ করেছেন যে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও তৃণমূল আরও বিচক্ষণতার সঙ্গে কাজ করবে এবং রাষ্ট্রপতির পদের মর্যাদা রক্ষা করবে, যা রাজনীতির ঊর্ধ্বে। এই বিতর্ক দেশজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।



