আমেরিকা-চীন ট্রুজ ঠিক রাখতে প্যারিসে গোপন আলোচনা

প্যারিসে যুক্তরাষ্ট্র আর চীনের শীর্ষ অর্থনৈতিক কর্মকর্তারা বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল দুই দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্য যুদ্ধের “ট্রুজ” (যুদ্ধবিরতি) ঠিকঠাক রাখা এবং আগামী মাসের শেষে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সম্ভাব্য বেইজিং সামিটের পথ সহজ করা।

কে কার সাথে বৈঠক করলেন?

  • যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে: ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এবং ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ জ্যামিসন গ্রিয়ার।
  • চীনের পক্ষে: ভাইস প্রিমিয়ার হে লিফেং।

বৈঠক হয়েছে প্যারিসের OECD হেডকোয়ার্টার্সে, রবিবার (আজ) থেকে শুরু হয়ে সোমবার পর্যন্ত চলার কথা।

কী কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হলো?

  • ২০২৫ সালের অক্টোবরে বুসানে (দক্ষিণ কোরিয়া) ট্রাম্প-শি-র মধ্যে হওয়া বাণিজ্য চুক্তির অগ্রগতি পর্যালোচনা। এই চুক্তিতে ট্যারিফ বাড়ানো বন্ধ, চীনের রেয়ার আর্থ (দুষ্প্রাপ্য মাটি) রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ এক বছরের জন্য স্থগিত, চীনা টেক কোম্পানির ওপর আমেরিকার ব্ল্যাকলিস্ট কমানোর কথা ছিল।
  • চীন ২০২৫-এ ১২ মিলিয়ন টন এবং ২০২৬-এ ২৫ মিলিয়ন টন আমেরিকান সয়াবিন কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে — এটা কতটা পূরণ হচ্ছে তা দেখা হয়েছে।
  • আমেরিকার ট্যারিফ পরিবর্তন, চীন থেকে রেয়ার আর্থ ও ম্যাগনেট সরবরাহ, আমেরিকার হাই-টেক এক্সপোর্ট কন্ট্রোল, আরও সয়াবিন কেনা ইত্যাদি নিয়ে কথা হয়েছে।

ফলাফল কী হলো?

বড় কোনো নতুন ব্রেকথ্রু হয়নি, কারণ সময় কম ছিল এবং আমেরিকা এখন ইরান যুদ্ধ নিয়ে ব্যস্ত। তবে দুই পক্ষই বর্তমান ট্রুজ বজায় রাখতে চায় যাতে ট্যারিফ আবার না বাড়ে। ট্রাম্পের সামিটে চীনের কাছ থেকে আরও বোয়িং বিমান, এলএনজি (তরল গ্যাস), সয়াবিন কেনার প্রতিশ্রুতি চাওয়া হতে পারে — বিনিময়ে আমেরিকা কিছু এক্সপোর্ট কন্ট্রোল শিথিল করতে পারে।

পটভূমি

দুই দেশের সম্পর্ক এখনো টানাপোড়েনের মধ্যে আছে। আমেরিকা নতুন করে Section 301 তদন্ত শুরু করেছে চীনের “অন্যায্য বাণিজ্য” নিয়ে, যা আরও ট্যারিফ আনতে পারে। চীন বলেছে এটা একতরফা এবং প্রয়োজনে তারাও পাল্টা ব্যবস্থা নেবে। তবে দুই পক্ষই চায় সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখতে, বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ, তেলের দাম বাড়া, হরমুজ প্রণালী নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে।