নিউ ইয়র্ক সিটি হলের সামনে হাজার হাজার সমর্থক ঠান্ডায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেছিলেন। প্রায় ১০০ দিন আগে জোহরান মামদানি নিউ ইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে শপথ নিয়েছেন। বিশ্বের সবচেয়ে ধনী শহরের এই তরুণ ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট মেয়রের জয় ঐতিহাসিক। তার নির্বাচনী প্রচারণা ছিল সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ কমানো, সাশ্রয়ী আবাসন এবং শ্রমজীবীদের অধিকারের ওপর। এখন ১০০ দিন পর তিনি তার অর্জন এবং চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলছেন।
আল জাজিরার সঙ্গে সিটি হলে এক সাক্ষাৎকারে মামদানি বলেন, “এই দেশ এবং এই শহরে একমাত্র বাস্তব সংখ্যাগরিষ্ঠতা হলো শ্রমজীবী শ্রেণির। অনেক শ্রমজীবী নিউ ইয়র্কবাসী এবং আমেরিকান তাদের সংগ্রামকে রাজনীতির কেন্দ্রে দেখতে পান না।” তার এই বার্তাই গত নির্বাচনে অনেক ভোটারকে আকৃষ্ট করেছে। নিউ ইয়র্কবাসীরা রেকর্ড ভাড়া, বাড়তি মুদ্রাস্ফীতি এবং দামি চাইল্ড কেয়ারের চাপে ছিলেন।
মামদানির প্রথম ১০০ দিনে কয়েকটি বড় সাফল্য এসেছে। তার অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল ইউনিভার্সাল চাইল্ড কেয়ার। এখন তিনি নিম্ন আয়ের এলাকায় ২,০০০ নতুন ডে-কেয়ার সিট যোগ করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছেন। গভর্নর ক্যাথি হোচুলের সঙ্গে মিলে তারা রাজ্য বাজেট থেকে ১.২ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছেন। জুন মাস থেকে দু’বছর বয়সী শিশুদের জন্য নিবন্ধন শুরু হবে।
মামদানি বলেন, “এটাই নিউ ইয়র্কবাসীদের প্রয়োজন। আমরা বিশ্বের সবচেয়ে ধনী শহরের কথা বলছি, কিন্তু এখানে চারজনের মধ্যে একজন দারিদ্র্যসীমায় বাস করেন। আবাসনের পর চাইল্ড কেয়ার খরচই মানুষকে শহর থেকে বের করে দিচ্ছে।” আরেকটি জনপ্রিয় উদ্যোগ হলো রাস্তার পথহোল (গর্ত) মেরামত। এপ্রিলের শুরুতে শহর ১,০০,০০০তম পথহোল ভরাট করেছে। মামদানি বলেন, “ছোট ছোট কাজগুলো সঠিকভাবে করতে পারলে মানুষ বিশ্বাস করবে যে আমরা বড় সমস্যাগুলোও সমাধান করতে পারব।”
তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে দুটি ভয়াবহ তুষারঝড়ে শহরের প্রস্তুতির অভাব স্পষ্ট হয়েছে। মামদানি স্বীকার করেন যে শহরের কাছে আগে থেকে কোনো বিস্তারিত পরিকল্পনা ছিল না। এছাড়া রাজ্য বাজেট নিয়ে আলোচনায় অগ্রগতি সীমিত। তার প্রশাসন একটি নতুন টুল চালু করেছে যা খাবার, যাতায়াত, কর এবং আবাসনসহ জীবনযাত্রার খরচ মাপে। ফলাফল: ৬২ শতাংশ নিউ ইয়র্কবাসী এই খরচ মেটাতে পারেন না। গড়ে একটি পরিবার প্রায় ৪০,০০০ ডলার ঘাটতিতে থাকে। কালো এবং হিস্পানিক সম্প্রদায়ে এই হার আরও বেশি।
মামদানির অনেক পরিকল্পনা কর বাড়ানোর ওপর নির্ভর করে, যা গভর্নর এবং কিছু ডেমোক্র্যাটের সঙ্গে সংঘাত তৈরি করেছে। কনজারভেটিভ চিন্তাবিদরা বলছেন, ধনীদের ওপর ইতিমধ্যেই অনেক কর চাপানো হয়েছে। অনেকে আশঙ্কা করেন যে অতিরিক্ত করের ফলে ধনীরা শহর ছেড়ে চলে যাবেন এবং কর্মসংস্থান কমবে।
আবাসন নিয়ে তার ফোকাস অব্যাহত। ভাড়া নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাব বিবেচনাধীন। একইসঙ্গে নতুন আবাসন নির্মাণ জোরদার করা হচ্ছে যাতে প্রতিযোগিতা বেড়ে ভাড়া কমে। বিনামূল্যে বাস সার্ভিসের মতো পরিকল্পনা বাস্তবায়নে রাজ্যের সঙ্গে সমন্বয় দরকার। প্রথম ১০০ দিনে মামদানি শ্রমজীবী মানুষের ইস্যুগুলোকে জাতীয় আলোচনায় তুলে ধরেছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তার এই রেকর্ড অন্য প্রার্থীদের জন্য উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে। তিনি নিজে বলেন, সব সংকটই শহরের সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ।



Leave a Comment