যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সব বন্দরে নৌ-অবরোধ শুরু করেছে। এতে তেহরান ক্ষুব্ধ হয়েছে এবং বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জলপথে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তবে সংলাপের মাধ্যমে সংঘাত সমাধানের আশায় তেলের বাজার কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে। মঙ্গলবার বেঞ্চমার্ক তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে।
ইসলামাবাদে সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর এই অবরোধ কার্যকর হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানিরা চুক্তি করতে চায়। ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, বলেন, “আলোচনার বল এখন ইরানের কোর্টে।”
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা (১৪০০ জিএমটি) থেকে ইরানের সব বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় প্রবেশ ও বের হওয়া সব জাহাজে অবরোধ আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে ইরানের প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল দৈনিক তেল রপ্তানি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুই পক্ষের মধ্যে এখনও যোগাযোগ চলছে এবং চুক্তির দিকে অগ্রগতি হচ্ছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও বলেছেন, সংঘাত সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে প্রথম চীনা ট্যাঙ্কার অবরোধ শুরুর পর উপসাগর থেকে বের হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। ন্যাটো মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধের বিরোধিতা করেছে। ইরান হুমকি দিয়েছে যে তারা প্রতিশোধ হিসেবে উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর বন্দরগুলোতে হামলা চালাতে পারে।
তেলের বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, যদিও সরবরাহের ঝুঁকি রয়েছে, তবু সংলাপের আশায় দাম কমেছে। এর আগে অবরোধের খবরে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অবরোধ একটি বড় সামরিক অভিযান যা দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে এবং নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। বিশ্ববাজার ও মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার ওপর এই ঘটনার বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।



Leave a Comment