সংসদে মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ সংরক্ষণের দাবিতে সরব হয়েছেন সিপিআই(এম) সাংসদ জন ব্রিট্টাস। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, লোকসভার ৫৪৩টি আসন এবং বর্তমান রাজ্য বিধানসভাগুলির আসন সংখ্যায় মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ সংরক্ষণ চান তাঁরা। সরকারের ২০১১ সালের আদমশুমারির ভিত্তিতে প্রো-রাটা বৃদ্ধির প্রস্তাবকে তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ব্রিট্টাস বলেন, “আমরা চাই লোকসভার ৫৪৩টি আসন এবং বর্তমান রাজ্য বিধানসভাগুলিতে মহিলাদের জন্য স্পষ্ট এক-তৃতীয়াংশ সংরক্ষণ। কিন্তু সরকার ২০১১ সালের আদমশুমারি উল্লেখ করে প্রো-রাটা বৃদ্ধির কথা বলছে, যাতে সবাইকে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি দেওয়া হবে বলে মনে হচ্ছে। এটা আমরা চাই না। আমরা চাই মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ সংরক্ষণের স্পষ্ট ও তাৎক্ষণিক বাস্তবায়ন।”
সিপিআই(এম) নেতার এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে যে পরবর্তী আদমশুমারি ও সীমানা পুনর্নির্ধারণের পরই সংরক্ষণ কার্যকর করা হবে। কিন্তু বিরোধী দলগুলি এই বিলম্বকে মেনে নিতে রাজি নয়। তারা অবিলম্বে বর্তমান আসন সংখ্যার ভিত্তিতেই এক-তৃতীয়াংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত করার দাবি জানাচ্ছে।
জন ব্রিট্টাসের মতে, সরকারের প্রস্তাবিত প্রো-রাটা বৃদ্ধি মহিলাদের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করবে না। তিনি আরও বলেন যে এই ধরনের বৃদ্ধি শুধুমাত্র সংখ্যাগত পরিবর্তন আনবে, কিন্তু সংসদ ও বিধানসভায় মহিলাদের সমান অংশগ্রহণের লক্ষ্য পূরণ করবে না। সিপিআই(এম)সহ বেশ কয়েকটি বিরোধী দল এই ইস্যুতে সরকারের উপর চাপ বাড়াতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
উল্লেখ্য, মহিলা সংরক্ষণ বিল ২০২৩ সালে সংসদে পাস হয়েছিল। কিন্তু তার বাস্তবায়ন এখনও ঝুলে রয়েছে। বিরোধীরা দাবি করছে, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর এই বিল কার্যকর না করায় মহিলাদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। জন ব্রিট্টাসের এই বক্তব্য সেই প্রেক্ষিতেই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই দাবি যদি গুরুত্ব পায় তাহলে আসন্ন অধিবেশনে সরকারের উপর চাপ আরও বাড়তে পারে। মহিলা সংরক্ষণের বিষয়টি শুধুমাত্র সংখ্যাগত নয়, বরং ভারতীয় গণতন্ত্রের সমতার প্রশ্নও জড়িত। সিপিআই(এম) সাংসদের এই অবস্থান বিরোধী ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।



Leave a Comment