বাংলাদেশের পোশাক খাতের মজুরি বোর্ড বুধবার ন্যূনতম মজুরি বাড়াতে সম্মত হয়েছে। বেতন বৃদ্ধির দাবিতে পাঁচ দিনের বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের পর এই ঘোষণা এলেও বৃদ্ধির পরিমাণ জানানো হয়নি। শ্রমিকেরা কারখানায় ফিরবেন কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা স্পষ্ট নয়।
বুধবার সকালে রাজধানী ঢাকার আশপাশের শিল্প এলাকায় হাজার হাজার শ্রমিক বিক্ষোভে অংশ নেন। কোথাও ইট ছোড়া হয়, পুলিশের গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং ব্যারিকেড তৈরি করা হয়। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে ভিড় ছত্রভঙ্গ করে। বিকেলে ঘোষণার পর বিক্ষোভ কমে আসে, তবে উৎপাদন আবার শুরু হবে বলে কোনো নিশ্চিত ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
ইকোটা গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের নেতা কমরুল হাসান জানান, অনেক শ্রমিক এই ঘোষণার অর্থ বুঝতে পারছেন না। মজুরি বোর্ড কীভাবে কাজ করে, তা অনেকেই জানেন না; সামাজিক মাধ্যমে তাঁরা জানতে চাইছেন, তাঁদের বেতন বেড়েছে কি না। বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদুল হাসান শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, “অস্থিরতা থামা উচিত, কারণ এখন অগ্রগতি স্পষ্ট।” তিনি আরও বলেন, “আমরা কারখানা বন্ধ রাখতে চাই না, কিন্তু অস্থিরতার কারণে আমাদের কোনো উপায় ছিল না।”
সরকার রোববার এই মজুরি বোর্ড গঠন করে। এতে নিয়োগকর্তা ও শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি রয়েছে। বোর্ড মজুরি বৃদ্ধির হার ঘোষণা করেনি। শ্রমিক প্রতিনিধি বাবুল আক্তার বলেছেন, শ্রমিকেরা ডিসেম্বরের মধ্যে বেতন বাড়িয়ে জানুয়ারিতে সংশোধিত বেতন পেতে চান। কারখানা মালিকদের প্রতিনিধিও এই বিষয়ে একমত হয়েছেন। বিজিএমইএর প্রতিনিধি এ বি এম শামসুদ্দিন বলেছেন, ডিসেম্বরে কাজ শেষ করে জানুয়ারিতে শ্রমিকদের বাড়ানো বেতন দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
শ্রমিকেরা বর্তমান ১২ হাজার ৫০০ টাকার পরিবর্তে ন্যূনতম মাসিক ৩০ হাজার টাকা, অর্থাৎ ১৪০ শতাংশ বৃদ্ধি দাবি করছেন। খাদ্য, বাসা, যাতায়াত ও চিকিৎসার ব্যয় বাড়ায় ৮ শতাংশ মূল্যস্ফীতির দেশে তাঁদের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে বলে শ্রমিকেরা বলছেন। গাজীপুর, মিরপুর, নারায়ণগঞ্জ ও সাভারে অস্থিরতা ছড়ায়। সাভারে পুলিশের একটি গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং এক পুলিশ কর্মকর্তা গুরুতর আহত হন বলে পুলিশ সুপার শামিমা পারভিন জানান। পোশাক শিল্প বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ যোগায়, যার মূল্য ৩৮ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত। এই খাতে ৪০ লাখের বেশি মানুষ কাজ করেন এবং দেশটি চীনের পরে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক।





