দুর্গাপুজোর এই উল্লাসময় সময়ে বাংলা চলচ্চিত্র জগতের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত রিলিজ ‘রঘু ডাকাত’ নিয়ে উত্তেজনা চরমে উঠেছে। সুপারস্টার দেব অভিনীত এই ছবিটি মাত্র পাঁচ দিন আগে ২৫ সেপ্টেম্বর মুক্তি পেয়েছে, কিন্তু এখনই পাইরেসি সাইটগুলোতে এর এইচডি কোয়ালিটির ফুল মুভি ডাউনলোডের জন্য উপলব্ধ হয়ে গেছে। এই লিকের ফলে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি চিন্তিত, এবং দর্শকদের মধ্যে পাইরেসির বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জারি হয়েছে।
‘রঘু ডাকাত’ ছবিটি ১৯শ শতাব্দীর বাংলার ঐতিহাসিক পটভূমিতে নির্মিত একটি গ্রিপিং ড্রামা। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের চাপের মধ্যে একজন ভয়ঙ্কর আউটল’ রঘু’র জীবনকাহিনী বলে ছবিটি, যিনি অসাধারণ কাজের মাধ্যমে এক কিংবদন্তি চরিত্রে রূপান্তরিত হন। পরিচালক ধ্রুবো ব্যানার্জির এই প্রোডাকশনটি বাংলা লোককথা থেকে অনুপ্রাণিত, এবং দেবের অভিনয়কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। ছবির প্রি-টিজার জুলাই মাসেই মুক্তি পেয়ে দর্শকদের মধ্যে ঝড় তুলেছিল।
বক্স অফিসে ছবিটির অভূতপূর্ব সাফল্য দেখা গেছে। প্রথম দিনেই ‘রক্তবীজ ২’ এবং ‘দেবী চৌধুরানী’র মতো অন্যান্য বড় বাজেটের ছবিগুলোকে ছাপিয়ে ‘রঘু ডাকাত’ দর্শকদের হৃদয় জয় করেছে। প্রথম পাঁচ দিনে ভারতে নেট কালেকশন প্রায় ২.৭৯ কোটি টাকা, এবং ষষ্ঠ দিনেও ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। টুইটারে দর্শকরা ছবিটির প্রশংসা করে বলছেন, “দেবের এই পুজো রিলিজটি দেখার মতোই দুর্দান্ত!” তবে নেগেটিভ রিভিউ সত্ত্বেও এটি ঘণ্টায় ঘণ্টায় ট্রেন্ডিং চলছে।
কিন্তু এই সাফল্যের মাঝে একটি কালো ছায়া পড়েছে—পাইরেসি। মুক্তির মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিভিন্ন টরেন্ট সাইট, ডাউনলোড প্ল্যাটফর্ম এবং অবৈধ ওয়েবসাইটগুলোতে ছবির এইচডি টিসি (HDTC) ভার্সন লিক হয়ে গেছে। সাইটগুলোতে ১.৬৫ জিবি সাইজের ফাইল দিয়ে ২ ঘণ্টা ১০ মিনিটের ফুল মুভি ডাউনলোডের অফার চলছে। এমনকি ভেগামুভিজ, বোলি৪ইউ এবং অন্যান্য পাইরেসি পোর্টালে ৭২০পি এবং ১০৮০পি কোয়ালিটিতে লিঙ্ক উপলব্ধ। বাংলা চলচ্চিত্রের পুনরুজ্জীবনের এই সময়ে পাইরেসি একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে নতুন ছবিগুলো মুক্তির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হাই-কোয়ালিটি হল প্রিন্ট লিক হয়ে যাচ্ছে।
ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সূত্রগুলো জানাচ্ছে, এই লিকের ফলে প্রডাকশন হাউসের ক্ষতি হাজার কোটি টাকার হতে পারে, যা বোলিউড থেকে শুরু করে বাংলা সিনেমার জন্য একটি জাতীয় সমস্যা। সাম্প্রতিককালে ‘রেইড ২’, ‘সিকান্দর’র মতো ছবিগুলোও এমন লিকের শিকার হয়েছে। ‘রঘু ডাকাত’র প্রডিউসাররা এখনই পুলিশ এবং সাইবার সেলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, এবং লিঙ্কগুলো ব্লক করার চেষ্টা চলছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায়ও পাইরেসির বিরুদ্ধে ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। একজন নেটিজেন টুইট করে বলেছেন, “পাইরেসি না, স্পয়লার না—সিনেমায় গিয়ে ‘রঘু ডাকাত’ দেখুন! টিকিট বুক করুন এখনই।” দর্শকদের অনুরোধ করা হচ্ছে, অবৈধ ডাউনলোড এড়িয়ে থিয়েটারে গিয়ে ছবিটি উপভোগ করুন। পাইরেসি শুধু ফিল্মমেকারদের ক্ষতি করে না, বাংলা সিনেমার ভবিষ্যতকেও বিপন্ন করে।
‘রঘু ডাকাত’র এই সাফল্য এবং পাইরেসির চ্যালেঞ্জ—দুটোই বাংলা চলচ্চিত্রের বর্তমান ছবি তুলে ধরছে। দর্শক হিসেবে আমরা যদি সঠিক পথ বেছে নিই, তাহলে এমন মাস্টারপিস আরও অনেক আসবে। আরও আপডেটের জন্য থাকুন আমাদের সাথে।


