খবর

অভিষেক শর্মাকে কি আটকানো যায়?

এশিয়া কাপ ২০২৫-এর সুপার ফোর ম্যাচে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারতের জয়ের নায়ক হয়ে উঠেছেন অভিষেক শর্মা। তার আরেকটি দুর্দান্ত শুরুতে ভারত ১৬৮-৬-এ পৌঁছে যায় এবং ৪১ রানের বিজয় নিশ্চিত করে ফাইনালে প্রবেশ করে। অভিষেকের এই ফর্ম দেখে প্রশ্ন উঠছে—এই তরুণ ব্যাটারকে কি আটকানো সম্ভব? এই ম্যাচে তার পারফরম্যান্স এশিয়া কাপের সেরা ব্যাটার হিসেবে তার দাবিদারিকে আরও মজবুত করেছে।

অভিষেকের ধাক্কা: তৃতীয় সাকসেসিভ ফিফটি

অভিষেক শর্মা এশিয়া কাপে (এখন পর্যন্ত) সবচেয়ে বিপজ্জনক ব্যাটার হয়ে উঠেছেন। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ভারতের উইকেটকিপার-ব্যাটার জিতেশ শর্মা (উইকেটকিপার) এবং অভিষেক শর্মা দিয়ে খেলা শুরু হয়। অভিষেক আবারও দ্রুত শুরু করেন—মাত্র ২২ বলে অর্ধশতক (৫০ রান) করে ফেলেন, যাতে ছিল সাতটি ফোর এবং দুটি সিক্স। এটি তার তৃতীয় সাকসেসিভ ফিফটি। এই টুর্নামেন্টে তার সর্বনিম্ন স্কোর ৩০ রান। শুভমান গিলের সঙ্গে মিলে তারা পাওয়ারপ্লেতে (৬ ওভারে) ৭১-১ করে, যা ভারতের এই টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেরা পাওয়ারপ্লে। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আগের ম্যাচে তারা ছিল ৭২-০।

অভিষেকের ব্যাটিং ছিল আক্রমণাত্মক। নাসুম আহমেদের এক ওভারে ২১ রান করে, মুস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে দুটি বিশাল সিক্স, এবং সাইফউদ্দিনের বিরুদ্ধে তিনটি ফোর—এসব দিয়ে ভারত দ্রুত ৫০-এ পৌঁছে যায়। ম্যাচের শেষ পর্যন্ত অভিষেক ৩৭ বলে ৭৫ রান করেন, যাতে ছিল আটটি ফোর এবং চারটি সিক্স। তাকে রানআউট করে বাংলাদেশের রিশাদ হোসেনের চমৎকার ফিল্ডিং মোমেন্টাম থামায়, কিন্তু ততক্ষণে ভারত ২০০-এর দিকে এগোচ্ছিল।

ভারতের ইনিংস: শুরুর পর ধীরগতি

অভিষেকের আউট হওয়ার পর ভারতের মোমেন্টাম কমে যায়। সুর্যকুমার যাদব, তিলক বর্মা, হার্দিক পাণ্ড্যা (৩৮ রান) সবাই ছোট ছোট অবদান দেন, কিন্তু বাংলাদেশের বোলাররা ভালো কামব্যাক করে। রিশাদ হোসেন ২-২৭ নেয়। শেষ পর্যন্ত ভারত ২০ ওভারে ১৬৮-৬ করে। অভিষেক ছাড়া অন্যরা বড় স্কোর করতে পারেনি, যা দেখায় তার উপর ভারতের নির্ভরতা কতটা।

বাংলাদেশের চেজ: স্পিনারদের জালে আটকে

১৬৯ রানের লক্ষ্যে বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসে পড়ে। জাসপ্রিত বুমরাহ দ্বিতীয় ওভারেই তানজিদ হাসানকে আউট করেন। অক্সার প্যাটেল এবং কুলদীপ যাদবের স্পিন ভালো কাজ করে। কুলদীপ ৩-১৮ নেয়, যাতে ছিল তার স্বভাবসুলভ টু ইন টু। বাংলাদেশের সাইফ হাসান ৬৯ রান করে লড়াই করেন, কিন্তু তার রানআউট এবং পরের উইকেটগুলোতে তারা ১৯.৩ ওভারে ১২৭-এ অলআউট হয়। বুমরাহ ২-১৮ এবং বারুণ চক্রবর্তী ২-২৯ নেয়। বাংলাদেশের টি২০ দুর্বলতা প্রকাশ পায়, যদিও তারা ভারতকে ২০০-এর বেশি রান করতে বাধা দেয়।

অভিষেক: এশিয়া কাপের তারকা

এই টুর্নামেন্টে অভিষেকের ফর্ম অসাধারণ। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৩৯ বলে ৭৪ রান করে প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ হন। মোট চার ম্যাচে ১৭৩ রান, গড় ৪৩.২৫ এবং স্ট্রাইক রেট ২০৮.৪৩। আইসিসি টি২০ আই র‍্যাঙ্কিংসে সে শীর্ষে। তার আক্রমণাত্মক স্টাইল ভিঙ্গার সেহওয়াগের স্মৃতি ফিরিয়ে আনে। ম্যাচের পর অভিষেক বলেন, “আমি শুধু বোলগুলোকে দেখছি এবং সুইট করছি।” বাংলাদেশের কোচ বলেন, “অভিষেককে আটকানো কঠিন, কিন্তু আমরা তার রানআউট করে ভালো করেছি।”

ফলাফল এবং পরবর্তী

ভারত এখন ফাইনালে, যেখানে বৃহস্পতিবারের পাকিস্তান-বাংলাদেশ ম্যাচের বিজয়ী প্রতিপক্ষ হবে। শ্রীলঙ্কা বাদ পড়েছে। অভিষেকের এই ফর্মে ভারতের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে।

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.