খবর

ওয়াইসি সরকারকে ‘গুগলি’ ফেলে প্রশ্ন: পাকের সাথে অন্যান্য সম্পর্ক বন্ধ থাকলে কেন ক্রিকেট খেলবেন?

অল ইন্ডিয়া মজলিস-এ-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম) নেতা আসাদুদ্দিন ওয়াইসি লোকসভায় সরকারকে কড়া প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি জিজ্ঞাসা করেছেন, পাহাড়গাম হামলা এবং অপারেশন সিন্দুরের পর পাকিস্তানের সাথে বাণিজ্য, জলসম্পদ এবং বিমান চলাচল বন্ধ থাকলে কীভাবে এশিয়া কাপে ১৪ সেপ্টেম্বর ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচ অনুমোদন করা হলো? ওয়াইসি বলেছেন, তার বিবেক এই ম্যাচ দেখতে দেবে না।

লোকসভায় অপারেশন সিন্দুর নিয়ে আলোচনার সময় ওয়াইসি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘রক্ত এবং জল একসাথে বইতে পারে না’ এবং ‘সন্ত্রাসবাদ এবং সংলাপ একসাথে যেতে পারে না’। তাহলে আপনাদের বিবেক কীভাবে বাণিজ্য বন্ধ করে রেখে পাকিস্তানের সাথে ক্রিকেট ম্যাচ খেলতে দেয়?” তিনি জিজ্ঞাসা করেন, “পাকিস্তানের বিমানের জন্য ভারতীয় আকাশপথ বন্ধ, তাদের নৌকা ঢুকতে পারে না, বাণিজ্য বন্ধ—এমন পরিস্থিতিতে কোন মুখে ক্রিকেট খেলবেন?”

ওয়াইসি ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, অপারেশন সিন্দুরের সাফল্য জাতীয় উল্লাস এবং দৃঢ়তার ফল। কিন্তু তিনি সরকারকে সতর্ক করেন, পাকিস্তানের মূল উদ্দেশ্য ভারতকে অস্থিতিশীল করা। তিনি দাবি করেন, সরকারকে জি৭ দেশগুলোকে রাজি করিয়ে পাকিস্তানকে আবার ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (এফএটিএফ)-এর ধূসর তালিকায় ফিরিয়ে আনতে হবে। “সন্ত্রাসের হুমকির মুখে ক্রিকেটের মতো প্রতীকী কূটনীতি গুরুত্বপূর্ণ হুমকিকে ছাপিয়ে যাবে না,” তিনি বলেন।

পাহাড়গাম হামলায় ২৬ জন নিহত হয়েছিলেন, যাতে সন্ত্রাসীরা ধর্মের ভিত্তিতে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করেছিল। ওয়াইসি বলেন, “যদি আপনার মেয়েকে হত্যা করা হতো, তাহলে কি এখনও ম্যাচ খেলতেন? এতে কত আয় হবে—৬০০ কোটি না ৭০০ কোটি?” তিনি বিসিসিআই-কে প্রশ্ন করেন, কোনো মানুষের জীবনের চেয়ে ২,০০০-৩,০০০ কোটি টাকার লাভ বেশি মূল্যবান কি?

এশিয়া কাপ ২০২৫ ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত হবে। ভারত এবং পাকিস্তান একই গ্রুপে রয়েছে, এবং গ্রুপ পর্বের ম্যাচ ছাড়াও সুপার ফোর এবং ফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মোহসিন নকভি এই সময়সূচী ঘোষণা করেছেন।

ওয়াইসি পরবর্তীকালে এক পডকাস্টে বলেন, “ক্রিকেট ভারতে একটা আসক্তি, সবকিছু থেমে যায়। কিন্তু পাহাড়গামের মতো হামলার পর এটা দেখার কোনো অর্থ হয় না। আমি এই ম্যাচ দেখব না।” তিনি বলেন, অপারেশন সিন্দুরের পরও ক্রিকেট একমাত্র সেতু রয়ে গেছে, কিন্তু জাতীয় নিরাপত্তা ছাপিয়ে যাওয়া উচিত।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ম্যাচ বয়কটের আহ্বান বাড়ছে। প্রাক্তন সেনা কর্মীরা, রাজনীতিবিদ এবং সাধারণ নাগরিকরা পাহাড়গাম হত্যাকাণ্ডকে ভুলে যাওয়ার অভিযোগ তুলছেন। ওয়াইসি বলেন, “আমরা শহীদ পরিবারগুলোকে বলব কি—অপারেশন সিন্দুরে প্রতিশোধ নেওয়া হয়েছে, এখন ক্রিকেট দেখুন?”

এছাড়া, ওয়াইসি চীনের সাথে প্রধানমন্ত্রীর সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, শাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন সদিচ্ছা সম্মেলনে শি জিনপিং-এর সাথে বৈঠকে দেমচোক এবং ডেপসাং-এ ২,০০০ বর্গকিলোমিটার ভূমি ফিরিয়ে আনার কোনো ফল হয়নি। চীন পাকিস্তানকে বিমান এবং স্যাটেলাইট প্রযুক্তিতে সমর্থন দিয়েছে।

ওয়াইসি অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে বিরোধিতা করে বলেন, বিলাসীপুরা, গোলপাড়া এবং হাসিলা বিলে হাজারো মুসলিমের বাড়ি ভেঙে ফেলা হয়েছে। আরএসএস প্রধান মোহন ভাগওয়তের কাশী-মথুরা বিষয়ক মন্তব্যকেও তিনি সমালোচনা করেন।

এই ঘটনা জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। ওয়াইসি বলেন, পাকিস্তান সেনাবাহিনী, আইএসআই-এর মতো শক্তিকে পরাজিত করতে দেশে ঐক্য এবং ভাইচারা বজায় রাখতে হবে।

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.