Site icon bengali news, bangla news, stock market news

বাংলার রাজনীতি বদলাতে চলেছে আসাদুদ্দিন ওয়াইসি

লোকসভার শীতকালীন অধিবেশন শুরু হতে না হতেই দিল্লিতে হইচই পড়ে গেছে। এবারের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (AIMIM) সুপ্রিমো তথা হায়দরাবাদের সাংসদ আসাদুদ্দিন ওয়াইসি। সূত্রের খবর, আগামী সপ্তাহেই তিনি লোকসভায় পশ্চিমবঙ্গের দুর্নীতির ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরতে চলেছেন এবং সেইসঙ্গে রাজ্যের উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়ে বড়সড় প্রস্তাব আনতে পারেন।

জানা গেছে, ওয়াইসি সংসদে Rule 193-এর অধীনে সংক্ষিপ্ত মেয়াদী আলোচনার দাবি জানিয়েছেন। বিষয়: “পশ্চিমবঙ্গে রাজ্যে দুর্নীতির বর্তমান পরিস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের উন্নয়নের পথে বাধা”। তাঁর দাবি, স্কুল নিয়োগ দুর্নীতি, গরু পাচার, কয়লা পাচার, রেশন দুর্নীতি থেকে শুরু করে পুরসভা নিয়োগে বেনিয়ম—এই সব মুখ্যমন্ত্রী থেকে মন্ত্রী, আমলা, পুলিশ, তৃণমূল নেতা—কেউই বাদ নেই। তিনি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার রিপোর্ট, চার্জশিট ও কোর্টের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে পুরো তথ্য সংসদে তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন।

কিন্তু শুধু দুর্নীতির সমালোচনা নয়। ওয়াইসি একইসঙ্গে বাংলার উন্নয়নের রোডম্যাপও পেশ করতে চান। তাঁর বক্তব্য, “বাংলার মাটি প্রতিভাবান। এখানে শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি—সব ক্ষেত্রেই অপার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু দুর্নীতির জালে আটকে গোটা রাজ্য পিছিয়ে পড়ছে। হিন্দু-মুসলিম-শিখ-ইসাই, সবাই মিলে যদি একটা স্বচ্ছ প্রশাসন গড়ে তোলা যায়, তাহলে বাংলা আবার সোনার বাংলা হয়ে উঠতে বেশি সময় লাগবে না।”

রাজনৈতিক মহলে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা। তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশ বলছেন, “ওয়াইসি বিজেপির B-টিম। বাংলায় ভোটের আগে মুসলিম ভোট ভাগ করতে এসেছিলেন, এখন আবার দুর্নীতির নামে রাজ্যকে বদনাম করছেন।” অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরের গলায় সুর বদলেছে। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, “যেই হোক, যদি বাংলার দুর্নীতির কথা সংসদে তোলেন, তাহলে আমরা স্বাগত জানাই।” কংগ্রেস ও সিপিএমও চুপ নেই। তাঁদের বক্তব্য, “অনেকদিন ধরেই আমরা বলছি, এবার অন্তত সংসদে আলোচনা হোক।”

এদিকে AIMIM-এর রাজ্য সভাপতি জাফরুল ইসলাম জানিয়েছেন, “আমাদের দল শুধু মুসলিমদের দল নয়। বাংলার প্রতিটি নির্যাতিত, বঞ্চিত মানুষের জন্য লড়াই করি। ওয়াইসি সাহেব যা করছেন, তা গোটা বাংলার জন্য।”

আগামী সপ্তাহে লোকসভায় এই আলোচনা হলে বাংলার রাজনীতিতে নতুন মোড় নিতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ এই প্রথম কোনো জাতীয় দলের বাইরের নেতা বাংলার দুর্নীতি ও উন্নয়ন—দুটো বিষয়ই একসঙ্গে এত জোরালোভাবে তুলে ধরতে চলেছেন।

Exit mobile version