খবর

ইরানে একটি স্কুলে হামলায় ১৬৫ জন স্কুলছাত্রী ও স্টাফ নিহত হওয়ার ঘটনায় শোক প্রকাশ করছে দেশটি

আল জাজিরার খবর অনুযায়ী, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের হরমুজগান প্রদেশের মিনাব শহরে অবস্থিত একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় (মেয়েদের স্কুল) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এই হামলা ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের প্রথম দিনেই ঘটে এবং এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

ইরান সরকারের দাবি, এটি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাগায়ি বলেছেন, এই দুই দেশ আবাসিক এলাকায় অবিচ্ছিন্নভাবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে—হাসপাতাল, স্কুল, রেড ক্রিসেন্ট সুবিধা বা সাংস্কৃতিক স্থাপনা কিছুই রেহাই পাচ্ছে না।

ইরানে এই ঘটনায় হাজার হাজার মানুষের অংশগ্রহণে একটি ব্যাপক জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে মিনাবে। শোকাহত পরিবার, কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষ ইরানি পতাকা নিয়ে শোক প্রকাশ করেছেন। অনেকে নিহতদের ছবি হাতে নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, কফিনগুলো ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা ওই এলাকায় কোনো হামলার বিষয়ে অবগত নয়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, মার্কিন বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো স্কুলে হামলা করবে না। মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির খবর খতিয়ে দেখছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনারের কার্যালয় এই হামলাকে ভয়াবহ বলে অভিহিত করে অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। ইউনেস্কো এবং নোবেল বিজয়ী শিক্ষা অধিকার কর্মী মালালা ইউসুফজাইও এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। মালালা বলেছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল বা যেকোনো বেসামরিক স্থাপনায় ইচ্ছাকৃত হামলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের অধীনে যুদ্ধাপরাধ।

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.