কলকাতা, ৮ মার্চ ২০২৬: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-ইসরায়েল-আমেরিকা যুদ্ধের প্রভাব এখন সরাসরি পড়তে শুরু করেছে বিশ্বের জ্বালানি বাজারে। বিশেষ করে স্ট্রেইট অফ হরমুজের মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে যুদ্ধের কারণে তেল ও গ্যাসের পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড অয়েলের দাম তীব্রভাবে বেড়েছে। ফলে ভারতে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে, পেট্রোল-ডিজেল এবং রান্নার গ্যাস (LPG)-এর দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২৫% এরও বেশি বেড়ে প্রায় ৯০-৯৪ ডলার প্রতি ব্যারেলে পৌঁছেছে। এর ফলে আমেরিকায় গ্যাসোলিনের দাম গড়ে ৩.৪১ ডলার প্রতি গ্যালন ছাড়িয়েছে, যা এক সপ্তাহে প্রায় ৪৫ সেন্ট বেড়েছে। ভারতের মতো তেল আমদানিকারক দেশে এর প্রভাব আরও তীব্র। ভারত তার প্রায় ৮০% ক্রুড অয়েল এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণে এলপিজি মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে, যার বড় অংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যায়।
ভারতে ইতিমধ্যে রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। Indian Oil Corporation-এর তথ্য অনুসারে, দিল্লিতে ১৪.২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৭% বেড়ে ৯১৩ টাকা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে পেট্রোল-ডিজেলের দাম এখনও সরাসরি বড় পরিবর্তন দেখায়নি (কলকাতায় পেট্রোল প্রায় ১০৫-১০৭ টাকা/লিটার, ডিজেল ৯২ টাকা/লিটারের আশেপাশে), কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী দিনগুলোয় দাম আরও বাড়তে পারে। যুদ্ধ যত দীর্ঘস্থায়ী হবে, তেল সরবরাহের ঘাটতি তত বাড়বে, ফলে মূল্যবৃদ্ধির চাপ অব্যাহত থাকবে।
এই যুদ্ধের কারণে কাতারের এলএনজি উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং অন্যান্য অঞ্চলে আক্রমণের ফলে গ্যাসের দামও আকাশছোঁয়া হয়েছে। ভারত সরকার এখনও জ্বালানি দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে, কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারের চাপে সাবসিডি বাড়ানো বা দাম বাড়ানো ছাড়া উপায় কম।
সাধারণ মানুষের উপর এর প্রভাব পড়বে পরিবহন খরচ, রান্নার খরচ এবং সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিতে। পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দারা ইতিমধ্যে দৈনন্দিন জীবনে এই চাপ অনুভব করতে শুরু করেছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জ্বালানি দামের ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে।



