বিদ্যার্থী ভবনের ডোসা ভুগছে? LPG ক্রাইসিসে রেস্তোরাঁর হাহাকার!

ভারতজুড়ে রেস্তোরাঁয় বাণিজ্যিক এলপিজি (LPG) সিলিন্ডারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, যার ফলে অনেক দোকান মেনু কমিয়ে দিয়েছে, কিছু বন্ধ করে দিয়েছে এবং অনেকে বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে। এই সংকটের মূল কারণ ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ চেইন বিঘ্নিত হওয়া, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভারতের প্রায় ৮৫-৯০% এলপিজি আমদানি ব্যাহত হচ্ছে। সরকার গার্হস্থ্য (ডোমেস্টিক) সিলিন্ডারকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় বাণিজ্যিক সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

বেঙ্গালুরুতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব

বেঙ্গালুরুর আইকনিক দোসা দোকানগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিখ্যাত বিদ্যার্থী ভবন (প্রায় ৮০ বছরের পুরনো) সাধারণত দিনে ১,৮০০-২,০০০ দোসা বানায় এবং ৬-৮টা সিলিন্ডার লাগে। সংকটের কারণে তারা ৪টা তাওয়ার মধ্যে ২টা বন্ধ করে দিয়েছে, যাতে সিলিন্ডার কিছুটা বেশি দিন চলে। দোসা বানাতে স্থির শিখা লাগে, যা গ্যাসের সবচেয়ে বেশি খরচ করে। অনেক দোকান এখন দোসা, পুরি, ভাজা জাতীয় আইটেম কমিয়ে দিয়েছে বা বাদ দিয়েছে। কালোবাজারে ১৯ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২,৮০০-৩,০০০ টাকা (সরকারি দাম ১,৯৪০ টাকা)। অনেকের স্টক মাত্র ২-৫ দিনের মতো আছে।

অন্যান্য শহরে অবস্থা

সরকার ও সংগঠনের প্রতিক্রিয়া

কেন্দ্রীয় সরকার বলছে স্টক যথেষ্ট আছে, প্যানিক না করার কথা বলা হয়েছে এবং এলপিজি উৎপাদন ১০% বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীকে চিঠি দিয়ে জরুরি হস্তক্ষেপের আবেদন করেছেন। ন্যাশনাল রেস্তোরাঁ অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (NRAI) সদস্যদের গ্যাস সাশ্রয়ের পরামর্শ দিয়েছে – কম গ্যাস লাগে এমন খাবার প্রাধান্য দেওয়া, স্টাফকে ট্রেনিং দেওয়া ইত্যাদি।

যদি সরবরাহ না বাড়ে, তাহলে হাজার হাজার রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, বিশেষ করে ছোট ব্যবসা ও দরিদ্র শ্রমিকদের উপর বড় প্রভাব পড়বে।

Exit mobile version