রাহুল বনাম হিমন্ত: আসামে জমি লুট ও দুর্নীতি নিয়ে তুঙ্গে রাজনৈতিক যুদ্ধ

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে ভারতের “সর্বাধিক দুর্নীতিগ্রস্ত মুখ্যমন্ত্রী” বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, আসামে বর্তমানে একটি “সর্বাধিক দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার” চলছে। ২০২৪ সালে ‘ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা’ চলাকালীন জোরহাটসহ বিভিন্ন স্থানের জনসভায় রাহুল গান্ধী এই অভিযোগ উত্থাপন করেন। তিনি আরও দাবি করেন যে, হিমন্ত বিশ্ব শর্মার পরিবার দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত এবং তারা অর্থের জোরে আসামের জনগণকে কিনে নিতে পারবেন বলে মনে করেন।
রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন যে, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সহায়তায় আসামে একটি “ল্যান্ড এটিএম” চালাচ্ছেন। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ও বনাঞ্চলের জমি লুট করে বড় শিল্পপতিদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। রাহুল গান্ধী আরও বলেন, হিমন্ত বিশ্ব শর্মা রাজার মতো আচরণ করে আসামের সম্পদ লুট করছেন এবং শীঘ্রই তাকে আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। ২০২৫ সালে আসাম ভ্রমণের সময়ও তিনি এই অভিযোগগুলো পুনরায় উত্থাপন করেন।
পাল্টা জবাবে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা রাহুল গান্ধীর এসব অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি পাল্টা দাবি করেছেন যে, গান্ধী পরিবারই দেশের “সর্বাধিক দুর্নীতিগ্রস্ত পরিবার”। তিনি রাহুল গান্ধীকে “রাজকুমার” বলে কটাক্ষ করে বলেন যে, রাহুল নিজেই একাধিক মামলায় জামিনে রয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, তার সরকার ল্যান্ড মাফিয়া ও অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে জনগণের জমি রক্ষা করছে। তিনি এসব অভিযোগকে “ভিত্তিহীন রাজনৈতিক আক্রমণ” বলে খারিজ করে দিয়েছেন।
এই বিতর্ক মূলত ২০২৪ সালের ‘ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা’ এবং পরবর্তী রাজনৈতিক সফরের সময় দানা বাঁধে। আসামে ভূমি দখল, বনাঞ্চল নিধন এবং শিল্প প্রকল্পের জমি নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের। বিজেপি রাহুল গান্ধীর এই অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে বর্ণনা করেছে। উল্লেখ্য যে, এই অভিযোগগুলো রাজনৈতিক স্তরে সীমাবদ্ধ এবং আদালতের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত কোনোটিই প্রমাণিত হয়নি।



