যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল ভবনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকদের হামলার পর ২০২১ সালের ৭ জানুয়ারি আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির অনেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অফিস থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য সংবিধানের ২৫তম সংশোধনীর ধারা ৪ ব্যবহারের দাবি জানাচ্ছেন। জো বাইডেনের নির্বাচনী বিজয়ের সার্টিফিকেশনের সময় এই হামলা হয় এবং এতে চারজনের মৃত্যু ঘটে। ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেস সদস্যরা, বিশেষ করে হাউস জুডিশিয়ারি কমিটির সব সদস্য, ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকে চিঠি লিখে বলেন যে ট্রাম্প “মানসিকভাবে সুস্থ নন” এবং “আমাদের গণতন্ত্র রক্ষায় অনিচ্ছুক”, তাই তিনি যেন ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ করে ট্রাম্পকে অক্ষম ঘোষণা করেন।
১৯৬৩ সালে প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির হত্যার পর ১৯৬৭ সালে অনুমোদিত ২৫তম সংশোধনী প্রেসিডেন্টের অক্ষমতা ও উত্তরাধিকার নিয়ে বিধান করে। এর ধারা ৩ সাধারণত স্বেচ্ছায় ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে, যেমন জর্জ ডব্লিউ বুশ ২০০২ ও ২০০৭ সালে কোলোনোস্কোপির সময় ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনিকে ক্ষমতা দেন। কিন্তু ধারা ৪ আরও গুরুতর—এতে ভাইস প্রেসিডেন্ট ও কেবিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য প্রেসিডেন্টকে দায়িত্ব পালনে অক্ষম বলে ঘোষণা করতে পারেন। প্রেসিডেন্ট যদি তা অস্বীকার করেন, তাহলে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করতে হয়।
এই সংশোধনী প্রয়োগের পক্ষে যুক্তি হিসেবে ডেমোক্র্যাটরা বলেন, ট্রাম্প ২০২০ নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিতে পারছেন না এবং তাঁর কথাবার্তা ও আচরণ গণতন্ত্রের জন্য হুমকি। ওয়াশিংটন পোস্টের সম্পাদকীয়তে বলা হয়, “প্রেসিডেন্সির বিশাল ক্ষমতা তাঁর হাতে থাকা প্রতি সেকেন্ডই জনশৃঙ্খলা ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি”। অন্যদিকে, বিশেষজ্ঞ ফ্র্যাঙ্ক বোম্যানের মতো অনেকে বলেন, ২৫তম সংশোধনী শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতার জন্য, শুধু ‘অযোগ্যতা’র জন্য নয়। পেন্সের অনিচ্ছার কারণে এটি প্রয়োগের সম্ভাবনা খুব কম বলেও মনে করা হয়।
প্রতিবেদনটি লেখার সময় কোনো আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, তবে পরবর্তীতে হাউসে ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের প্রস্তাব পাস হয় (২২৩-২০৫ ভোটে), কিন্তু পেন্স তা প্রত্যাখ্যান করেন। শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পকে অপসারণের জন্য দ্বিতীয়বার ইমপিচমেন্টের পথে যাওয়া হয়।



