হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা ও তেলের দাম বৃদ্ধি: ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রবিবার (২২ মার্চ, ২০২৬) একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন, যেখানে পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ভারতের জ্বালানি খাতের প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা হয়। এই বৈঠকে পেট্রোলিয়াম, ক্রুড অয়েল, প্রাকৃতিক গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং সার সরবরাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলি নিয়ে আলোচনা হয়। উদ্দেশ্য ছিল দেশে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখা, লজিস্টিক্স স্থিতিশীল করা এবং বিতরণ ব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে চালু রাখা, যাতে কোনও ধরনের বিঘ্ন না ঘটে।
বৈঠকে জানানো হয় যে, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের অবরোধের কারণে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একসময় ১১৯ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল এবং বর্তমানে প্রায় ১০৯ ডলারে রয়েছে। ভারত সরকার দেশীয় চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং প্রয়োজনে জ্বালানি রপ্তানির পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করবে। আমেরিকা থেকে একটি এলপিজি ট্যাঙ্কার ভারতের পশ্চিম উপকূলে পৌঁছেছে, যা কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। খুচরা পেট্রল-ডিজেলের দাম সাধারণ उपभোक्तাদের জন্য অপরিবর্তিত থাকলেও শিল্পক্ষেত্রে ডিজেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে সতর্ক করেছেন যে, হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে খুলে না দিলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলা চালাবে এবং বড় বড় পাওয়ার প্ল্যান্টগুলিকে লক্ষ্য করে ধ্বংস করবে। এই হুমকি পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের (ইউএস-ইজরায়েল বনাম ইরান) চতুর্থ সপ্তাহে এসেছে, যেখানে ইরান ইজরায়েলের নিউক্লিয়ার স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে এবং হুথি বিদ্রোহীরাও সংঘাতে যোগ দেওয়ার হুমকি দিয়েছে।
ভারত সরকার এই পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই বৈঠকের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক হিসেবে যেকোনও সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে, যাতে অর্থনীতি ও জনজীবনের ওপর কোনও বড় প্রভাব না পড়ে।
