পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার প্রবাসী শ্রমিকদের জীবনে এবারের বিধানসভা নির্বাচন আর শুধু রাস্তা, চাকরি বা রেশনের ইস্যু নয়। তাদের কাছে এখন ভোট হলো নিজেদের অস্তিত্ব প্রমাণের লড়াই। “আমার বাবা ভোট দিয়েছে, দাদাও ভোট দিয়েছে। তবু আমাকে প্রমাণ করতে বলা হলো আমি ভারতীয়। এই নির্বাচন কোনো দল বেছে নেওয়ার নয়, এটা আমাদের অস্তিত্ব প্রমাণের,” বলছেন জামালউদ্দিন শেখ।
জেলার বেলডাঙা ও হরিহরপাড়া এলাকার বেশ কয়েকজন প্রবাসী শ্রমিক গত বছর মহারাষ্ট্রে কাজ করতে গিয়ে ‘বাংলাদেশি’ তকমা পেয়ে ধরা পড়েন। তাদের জোর করে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়। পরে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের হস্তক্ষেপে ফিরে আসেন। মিনারুল শেখ, মাহবুব শেখ, নাজিমউদ্দিন মণ্ডল, শামিম খানসহ এই শ্রমিকরা এখন ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া, নথি যাচাই এবং নিজেদের ভারতীয়ত্ব প্রমাণের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
মিনারুল শেখ বলেন, “গত বছর আমাকে অন্য দেশে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল বলে আমি ভারতীয় নই। এই ভোটই আমার জবাব।” আট মাস ধরে শুনানি ও দফায় দফায় অফিসে ছোটাছুটির পর তিনি ভোটার স্লিপ ফিরে পান। হরিহরপাড়ার মাহবুব শেখের পরিবারের একজনের নাম ভোটার তালিকা থেকে উধাও হয়ে গেছে। নাজিমউদ্দিন এখনও বাংলাদেশি টাকা সঙ্গে রাখেন স্মৃতি হিসেবে।
মুর্শিদাবাদে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকায় এই ঘটনা গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। জেলায় সংশোধিত ভোটার তালিকায় প্রায় ৭.৪৮ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। প্রবাসী শ্রমিকদের পরিবারগুলো এখন ভয়ে আছে যে কোনো মুহূর্তে তাদের ‘বহিরাগত’ বলে চিহ্নিত করা হতে পারে।
তৃণমূল কংগ্রেস নেতা আবু তাহের বলেছেন, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে বাংলাভাষী মুসলিমদের সন্দেহের চোখে দেখা হয়। কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেছেন, সাধারণ নাগরিকদের ভারতীয়ত্ব প্রমাণ করতে লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে, এটা গণতন্ত্রের পরীক্ষা। বিজেপি অবশ্য বলছে, অনুপ্রবেশ রুখতে হবে, তবে সঠিক নাগরিকদের হয়রানি করা হবে না।
২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় মুর্শিদাবাদে ভোট হবে। প্রবাসী শ্রমিকরা এবার ভোটার স্লিপের সঙ্গে আধার, প্যান, জমির দলিল সব নথি প্লাস্টিকের ফোল্ডারে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাবেন — শুধু ভোট দিতে নয়, নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতে।
(সূত্র: Siasat Daily)



Leave a Comment