আবহাওয়াভারতপ্রযুক্তিবিনোদনবিদেশখেলাশেয়ার বাজার

সিপিআই(এম) নেতা মহম্মদ ইউসুফ তারিগামি আর্টিকেল ৩৭০ বাতিলের সপ্তম বার্ষিকীতে জম্মু-কাশ্মীরের পূর্ণ রাজ্য মর্যাদা ফেরানোর দাবি

সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মহম্মদ ইউসুফ তারিগামি আর্টিকেল ৩৭০ বাতিলের সপ্তম বার্ষিকী উপলক্ষে জম্মু ও কাশ্মীরের পূর্ণ রাজ্য মর্যাদা পুনরুদ্ধারের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ৫ আগস্ট ২০১৯-এ কেন্দ্রীয় সরকারের সেই সিদ্ধান্তের পর সাত বছর পেরিয়ে গেছে। তারিগামি তার বক্তব্যে বলেছেন, সেদিন যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল—শান্তি, নিরাপত্তা, ব্যবসার উন্নয়ন, যুবকদের কর্মসংস্থান, ন্যায়বিচার ও অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের নিজস্ব সরকার গঠনের সুযোগ—সেগুলো বাস্তবে পূরণ হয়নি। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন যে, সরকার দেশের জনগণের সামনে জম্মু-কাশ্মীরের সাংবিধানিক অধিকার, উন্নয়ন ও বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে কী জবাবদিহি করবে।

তারিগামি ইতিহাসের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেছেন, ১৯৪৭ সালের দেশভাগের সময় জম্মু-কাশ্মীরের জনগণ ধর্মের ভিত্তিতে নয়, মানবিক সম্পর্ক ও ধর্মনিরপেক্ষ ঐতিহ্যের ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল। সেই সময়ের চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি আজ কোথায়? তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তখন কোনো সামরিক বাহিনী বা মহারাজার উপস্থিতি না থাকা সত্ত্বেও কাশ্মীরি পণ্ডিতসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে প্রতিবেশীরা রক্ষা করেছিল। এখনও জম্মু-কাশ্মীরের পরিচয় সন্ত্রাস নয়, বরং সেই ধর্মনিরপেক্ষ ঐতিহ্য। কিন্তু ২০১৯-এর পর সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নেওয়া, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করা এবং বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা চালু করার মধ্য দিয়ে রাজ্যের মর্যাদা অবনমিত করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।

তারিগামি জোর দিয়ে বলেছেন, জম্মু-কাশ্মীরের জনগণ কোনো বিশেষ সুবিধা চায় না, শুধু সমান অধিকার ও ভবিষ্যৎ নিজেদের হাতে গড়ার সুযোগ চায়। তিনি ভারতের অন্যান্য অংশের মানুষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন যেন তারা এই যন্ত্রণা বুঝে নেয় এবং প্রোপাগান্ডায় বিভ্রান্ত না হয়। পূর্ণ রাজ্য মর্যাদা ফিরিয়ে আনা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনঃপ্রতিষ্ঠা করাই এখন প্রধান দাবি। সিপিআই(এম) পশ্চিমবঙ্গের অফিসিয়াল হ্যান্ডেল থেকে এই বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে, যা আর্টিকেল ৩৭০ বাতিলের সপ্তম বার্ষিকীতে বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের অবস্থানকে স্পষ্ট করে তুলেছে।