ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত! মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইতিহাসের বড় ধাক্কা

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত: রিপোর্ট

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় মিডিয়া নিশ্চিত করেছে যে, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (৮৬) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন। এই ঘটনা শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ভোরে শুরু হওয়া বড় ধরনের হামলার সময় ঘটেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় মিডিয়া জানিয়েছে, খামেনি তেহরানে তার অফিসে (নেতার বাসভবন) দায়িত্ব পালনকালে হামলার শিকার হন। তার মেয়ে, নাতি এবং জামাইও এই হামলায় নিহত হয়েছেন বলে ইরানি মিডিয়া রিপোর্ট করেছে। হামলায় ইরানের ২৪টি প্রদেশ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ইরানি রেড ক্রিসেন্টের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, অন্তত ২০১ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ইসরায়েলের হামলায় দক্ষিণ ইরানের মিনাবে একটি মেয়েদের প্রাথমিক বিদ্যালয় (শাজারেহ তাইয়েবেহ) এবং তেহরানের পূর্বে আরেকটি স্কুলে আঘাত হেনে অন্তত ১০৮ জনসহ অনেক শিশু নিহত হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করে খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে বলেছেন, “খামেনি আমাদের গোয়েন্দা ও উন্নত ট্র্যাকিং সিস্টেম থেকে বাঁচতে পারেননি। ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে এমন কোনো কিছু করার সুযোগ তার বা অন্য নিহত নেতাদের ছিল না।” তিনি আরও বলেছেন, ইরানে “ভারী ও নির্ভুল বোমা হামলা” অব্যাহত থাকবে “যতদিন প্রয়োজন” এবং এটি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য। ট্রাম্প ইরানের জনগণকে দেশ ফিরে নেওয়ার “সবচেয়ে বড় সুযোগ” বলে উল্লেখ করেছেন এবং আইআরজিসি ও পুলিশকে “ইরানি দেশপ্রেমিকদের” সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে একীভূত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, বিপ্লবী গার্ডের কমান্ডারসহ অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও পারমাণবিক কর্মসূচির সিনিয়র কর্মকর্তাদের নির্মূল করা হয়েছে এবং হামলা অব্যাহত থাকবে। ইরান প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতে (কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইনসহ)। এতে বিভিন্ন দেশে এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম সক্রিয় হয়েছে।

ইরান সরকার ৪০ দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছে। জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন এবং বলেছেন, এই অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ইরানের জাতিসংঘের রাষ্ট্রদূত এটিকে “যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ” বলে অভিহিত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার জন্য বৈধ পদক্ষেপ। চীন ও রাশিয়া উদ্বেগ প্রকাশ করে হামলার নিন্দা করেছে। এটি একটি দ্রুত বিকশিত ঘটনা। পরিস্থিতি এখনও অস্থির এবং আরও তথ্য আসতে পারে।

Exit mobile version