ট্রাম্প-মের্জ বৈঠক: ইরান যুদ্ধ শেষে রেজা পাহলভিকে নয়, দেশের লোককে নেতা করার পক্ষে ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর দেশটির নেতৃত্বে সাবেক শাহের ছেলে রেজা পাহলভির চেয়ে ইরানের অভ্যন্তর থেকে কোনো ব্যক্তি আসলে তা ভালো হবে।

হোয়াইট হাউজে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের সাথে বৈঠকের সময় সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন: “তিনি [পাহলভি] খুবই ভালো মানুষ মনে হয়। কিন্তু আমার মনে হয়, অভ্যন্তর থেকে কেউ নেতৃত্ব দিলে ভালো হবে।”

তিনি আরও যোগ করেন যে, ইরানে হামলার সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি হবে যদি নতুন নেতা সাবেক সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মতো খারাপ হয়ে ওঠেন। “আমি মনে করি সবচেয়ে খারাপ কেস হবে—আমরা এটা করলাম, তারপর কেউ এসে নিল যে আগের লোকটির মতোই খারাপ। ঠিক বলেছি? এটা হতে পারে। আমরা চাই না এটা ঘটুক,” ট্রাম্প বলেন।

প্রেক্ষাপট:

  • এই মন্তব্য আসে ইরানে চলমান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র চতুর্থ দিনে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের সামরিক স্থাপনা, নেতৃত্ব এবং অবকাঠামোতে হামলা চালাচ্ছে। সুপ্রিম লিডার খামেনির মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে।
  • রেজা পাহলভি, যিনি ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর নির্বাসিত, সম্প্রতি নিজেকে ইরানের রূপান্তরকালীন নেতা হিসেবে প্রস্তাব করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল অভিযানকে সমর্থন করেছেন।
  • ট্রাম্পের এই বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, তিনি পাহলভির অভ্যন্তরীণ সমর্থন নিয়ে সন্দিহান এবং ইরানের ভেতর থেকে কোনো জনপ্রিয় ব্যক্তিকে নেতৃত্বে দেখতে চান, যাতে আরেকজন কঠোরপন্থী নেতা না উঠে আসে।

জার্মান চ্যান্সেলর মের্জ ট্রাম্পের সাথে একমত প্রকাশ করে বলেছেন যে, দুই দেশ ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের বিষয়ে “একই পাতায়” রয়েছে। এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের পরবর্তী পর্যায়ে ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনাকে আরও তীব্র করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই অবস্থান পাহলভির সম্ভাব্য ভূমিকাকে সীমিত করে দিয়েছে।

1 thought on “ট্রাম্প-মের্জ বৈঠক: ইরান যুদ্ধ শেষে রেজা পাহলভিকে নয়, দেশের লোককে নেতা করার পক্ষে ট্রাম্প”

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.