জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বৃহৎ ও শক্তিশালী টাইফুন নং-১৩ (ডলফিন) কাছাকাছি আসায় আম্মি ওশিমা দ্বীপপুঞ্জ ও ওকিনাওয়ায় তীব্র ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের তোলা ভিডিওতে আম্মি সিটির নাজে এলাকায় গাছপালা তীব্র বাতাসে দুলছে এবং ঘন কুয়াশা ও বৃষ্টিতে পরিবেশ ঢেকে গেছে।
জাপান আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে টাইফুনটি কাগোশিমা প্রিফেকচারের ওকিনোয়েরাবু দ্বীপের প্রায় ৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থান করছিল। এটি পশ্চিম দিকে ঘণ্টায় প্রায় ২৫ কিলোমিটার গতিতে অগ্রসর হচ্ছে। কেন্দ্রীয় চাপ ৯৫০ হেক্টোপাস্কাল এবং কেন্দ্রের কাছে সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতি সেকেন্ডে ৪০ মিটার (প্রায় ১৪৪ কিমি/ঘণ্টা), দমকা হাওয়া সেকেন্ডে ৫৫ মিটার পর্যন্ত উঠতে পারে।
আম্মি ওশিমা ও ওকিনাওয়ার মূল দ্বীপ ইতিমধ্যে টাইফুনের ঝড়ো হাওয়ার এলাকায় প্রবেশ করেছে। কর্তৃপক্ষ কাগোশিমা ও ওকিনাওয়া প্রিফেকচারে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ৫০০-এর বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং নাহা বিমানবন্দর বন্ধ রয়েছে। ওকিনাওয়ায় তিনজন বয়স্ক ব্যক্তি হালকা আহত হয়েছেন। টয়োটা কোম্পানিও কয়েকটি কারখানায় কাজ স্থগিত রেখেছে।
আগামী ২৪ ঘণ্টায় ওকিনাওয়া দ্বীপ অঞ্চলে ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। আম্মি ও দক্ষিণ কিউশুতেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বাতাস এত তীব্র হতে পারে যে কিছু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত বা ধসে পড়ার ঝুঁকি আছে। উচ্চ তরঙ্গ এবং ভূমিধসের বিপদও রয়েছে। টাইফুনটি ধীরে চলার কারণে প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
উইন্ডি ডটকম-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৯ আগস্ট পর্যন্ত এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে থাকতে এবং সর্বশেষ আবহাওয়া আপডেট মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে। টাইফুনটি পরবর্তীতে পূর্ব চীন সাগর অতিক্রম করে চীনের দিকে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভিডিও থেকে দেখা যাচ্ছে, আম্মি ওশিমায় ইতিমধ্যেই পরিস্থিতি খারাপ। জনসাধারণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।




Leave a Comment