ইরান যুদ্ধ থামবে না বলছে ট্রাম্প তবে ইসরাইলের অবস্থা কি হবে?

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির আলোচনা শুরু করার সব প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছেন। রয়টার্সের একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলো (বিশেষ করে ওমান ও মিশর) যুদ্ধ থামাতে কূটনৈতিক আলোচনার চেষ্টা করলেও ওয়াশিংটন কোনো আগ্রহ দেখায়নি। ট্রাম্পের প্রশাসন এখন পুরোপুরি ইরানের সামরিক শক্তি দুর্বল করার দিকে মনোযোগ দিয়েছে। ট্রাম্প নিজে ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, “ইরানের নেতৃত্ব এখন অনেক দুর্বল, কিন্তু এখন আর দেরি হয়ে গেছে! অপারেশন এপিক ফিউরি চলবে।”

যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করেছে ওমান ও মিশর — যারা যুদ্ধ শুরুর আগে এ ধরনের আলোচনায় সফল হয়েছিল। কিন্তু ইরানের দুই জ্যেষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, তেহরান কোনো যুদ্ধবিরতির কথা শুনবে না যতক্ষণ না মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়। নত ুন সুপ্রিম লিডার মোজতাবা খামেনেই হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা আরও বাড়ানোর হুমকি দিয়েছেন। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস মনে করে, প্রণালী নিয়ন্ত্রণ হারালে যুদ্ধে হার মানতে হবে — তাই তারা আলোচনায় একদম রাজি নয়।

যুদ্ধের শুরু হয়েছে মার্কিন-ইসরায়েলি বড় বিমান হামলা দিয়ে, যাতে ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে আঘাত হেনেছে। এতে ২,০০০-এর বেশি মানুষ মারা গেছে (বেশিরভাগ ইরানে)। ইরান প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন বন্ধ হয়ে গেছে, তেলের দাম আকাশছোঁয়া। মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে মতভেদ আছে — কেউ দ্রুত যুদ্ধ শেষ করতে চান, কেউ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও নিউক্লিয়ার প্রোগ্রাম পুরোপুরি ধ্বংস করতে চান।

এই পরিস্থিতির ফলে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহে বড় ধাক্কা লেগেছে, মার্কিন মধ্যমেয়াদি নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। উভয় পক্ষই আলোচনায় অনীহা দেখাচ্ছে, যা যুদ্ধকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে। বর্তমানে কোনো আলোচনা এগোয়নি, এবং “অপারেশন এপিক ফিউরি” চলমান। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।