দুবাই বিমানবন্দরে ইরানি ড্রোন হামলা: জ্বালানি ট্যাঙ্কে আগুন, ফ্লাইট স্থগিত

দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (DXB) কাছাকাছি একটি ড্রোন হামলায় জ্বালানি ট্যাঙ্কে আগুন লেগে যাওয়ায় ফ্লাইট চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং দমকল বাহিনী দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কিছুক্ষণের জন্য ফ্লাইট স্থগিত করা হয় এবং বেশ কয়েকটি বিমানকে আল মাকতুম বিমানবন্দরে ডাইভার্ট করতে হয়। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ততম এই বিমানবন্দরে এ ধরনের ঘটনা যাত্রী ও বিমান সংস্থাগুলোর জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই ড্রোন হামলা ইরানের গালফ অঞ্চলে চলমান প্রতিশোধমূলক আক্রমণের অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে ইরান UAE-সহ গালফের বিভিন্ন দেশে ১,৮০০-এর বেশি মিসাইল ও ড্রোন ছুড়েছে। এ পর্যন্ত UAE-ই সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে। একই দিনে আবুধাবিতে একটি মিসাইল হামলায় একজন ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হয়েছে এবং সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারেও একাধিক ড্রোন ও মিসাইল আটকানোর খবর পাওয়া গেছে।

ইরানের এই আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে UAE-এর প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ এবং সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। GCC দেশগুলো, যুক্তরাজ্য ও জর্ডান যৌথ বিবৃতিতে ইরানের এই “পাপপূর্ণ আক্রমণ” বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। এই সংঘাতে UAE-তে এখন পর্যন্ত ৬ জন নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ৪ জন বেসামরিক নাগরিক। অন্যদিকে ইরানে ইসরায়েলের হামলায় প্রায় ১,৫০০ বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং ৩০ লক্ষের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

এই চলমান যুদ্ধের কারণে গালফ অঞ্চলের বিমান চলাচল, তেল রপ্তানি ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ব্যাপক প্রভাব পড়ছে। দুবাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ হাবে বারবার হামলার ঘটনা বিশ্বব্যাপী বিমান যোগাযোগ ও বাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে গোটা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও অর্থনীতি আরও গভীর সংকটে পড়তে পারে।