ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে ইরানি কামিকাজে ড্রোন (যেমন শাহেদ মডেল) থেকে রক্ষা করতে সাহায্যের বিনিময়ে ইউক্রেন অর্থ এবং প্রযুক্তি চায়। কিয়েভ ইতিমধ্যে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব এবং জর্ডানে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়েছে। এই দলগুলো ড্রোন প্রতিরক্ষার বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন করবে এবং কীভাবে ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা কাজ করে তা প্রদর্শন করবে। জেলেনস্কি স্পষ্ট করে বলেছেন, “এটা কোনো যুদ্ধ অভিযানে জড়ানোর বিষয় নয়। আমরা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে নেই।”
জেলেনস্কি জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ইরানি ড্রোন প্রতিরোধে বিপুল পরিমাণ এয়ার ডিফেন্স মিসাইল খরচ করছে, যেখানে ইউক্রেন রাশিয়ান ড্রোনের বিরুদ্ধে সস্তা ও কার্যকর পদ্ধতি (যেমন ছোট ড্রোন এবং জ্যামিং ইকুইপমেন্ট) ব্যবহার করে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। তিনি বলেন, “আমাদের কাছে আজ অর্থ এবং প্রযুক্তি উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ।” গাল্ফ দেশগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ড্রোন চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বড় ড্রোন চুক্তির আশা করেছিলেন (৩৫-৫০ বিলিয়ন ডলারের), কিন্তু তা হয়নি বলে হতাশা প্রকাশ করেছেন।
এই সাহায্যের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা (ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র বনাম ইরান যুদ্ধ) এবং ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের মধ্যে সম্পর্ক দেখা যাচ্ছে। জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ইউক্রেনের এয়ার ডিফেন্স মিসাইল সরবরাহকে প্রভাবিত করতে পারে। তিনি চান না যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের কারণে ইউক্রেনের সমস্যা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিক। বিভিন্ন দেশ (ইউরোপ, আফ্রিকা সহ) ইউক্রেনের ড্রোন প্রতিরোধ অভিজ্ঞতা চাইছে, কিন্তু ইউক্রেন এখন এর বিনিময়ে সুনির্দিষ্ট সুবিধা আশা করছে।

