গাজার মাঘাজি শরণার্থী শিবিরে সোমবার দুপুরে ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সমর্থনপুষ্ট বলে অভিযোগ উঠেছে এমন একটি সশস্ত্র গ্রুপ হঠাৎ করে বেসামরিক বাড়ি ও ইউএনআরডব্লিউএ স্কুলে হামলা চালায়। এতে অন্তত ১০ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪৪ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা এই গ্রুপকে “পপুলার ফোর্সেস কমব্যাটিং টেররিজম” নামে চিহ্নিত করেছেন। আসাদ নতিল নামের এক বাসিন্দা আল জাজিরাকে জানান, দুপুরে হঠাৎ তার বাড়িতে সশস্ত্র লোকজন ঢুকে পড়ে। তারা দরজা ভেঙে ঢুকে তার চাচা ও অন্য একজনকে আটক করে নিয়ে যায়। পরিবারের সবাইকে একটি ঘরে জড়ো করে রাখা হয়। বাইরে তীব্র গুলিবিনিময় চলতে থাকে। তারা নিজেদেরকে “সন্ত্রাসবাদবিরোধী জনপ্রিয় বাহিনী” বলে পরিচয় দেয়।
নতিলের পরিবারের সদস্যরা ভয়ে জমে যান। সশস্ত্র গ্রুপের সদস্যরা জানালা দিয়ে অন্য একটি গ্রুপের (হামাস সমর্থক বলে ধারণা) সঙ্গে গুলি বিনিময় করে। এই ঘটনায় আশপাশের চারটি বাড়ি তারা আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করে। চলে যাওয়ার আগে তারা নতিলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং তার ফটোগ্রাফির সরঞ্জাম কেড়ে নেয়। মাঘাজি শিবিরের পূর্বাংশে এই অভিযান চলাকালে ইউএনআরডব্লিউএ পরিচালিত প্রিপারেটরি বয়েজ স্কুলেও হামলা হয়। স্কুলটিতে অনেক বাস্তুহারা নারী-শিশু আশ্রয় নিয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ জৌদা জানান, স্কুলের ভেতরে গুলি চলতে থাকে। পরে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান স্কুলের গেটে হামলা চালায়। চারদিক থেকে ঘেরাওয়ের মধ্যে পড়ে অনেকে আহত ও নিহত হন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সশস্ত্র গ্রুপটি “হলুদ লাইন” (ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রিত এলাকার সীমানা) থেকে এসে হামলা চালায় এবং ইসরায়েলি বাহিনী তাদের আড়াল ও আকাশীয় সমর্থন দেয়। বাসিন্দারা বাধা দিতে গেলে তাদের ওপরও গুলি ও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে এই সংঘর্ষ চলে। খালেদ আবু সাকর নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, “রাস্তাঘাট যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়। নারী-শিশুরা ভয়ে ছুটোছুটি করছিল। গাড়িতে করে আহত ও মৃতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।” এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়েছে।
গাজার বিভিন্ন এলাকায় এমন কয়েকটি সশস্ত্র গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে বলে জানা গেছে। এরা মূলত যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট নিরাপত্তা শূন্যতার সুযোগ নিচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থা বলছে, এই গ্রুপগুলো সাহায্যবাহী ট্রাক লুট, অপহরণ, নির্যাতন ও হত্যায় জড়িত এবং ইসরায়েলি বাহিনী তাদের সমর্থন দিচ্ছে। যুদ্ধবিরতি শুরুর পরও গাজায় সহিংসতা থামেনি। সেফায়ার শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৭৩৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজা সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস বলেছে, এই গ্রুপগুলোকে সমর্থন করা চতুর্থ জেনেভা কনভেনশনের লঙ্ঘন। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে। মাঘাজির বাসিন্দারা বলছেন, “যুদ্ধবিরতি বলে যা প্রচার করা হচ্ছে তা মিথ্যা। বোমা, গুলি আর রক্তপাত কখনো থামছে না। আমরা ক্লান্ত।” এই ঘটনা গাজার ভঙ্গুর নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।



Leave a Comment