যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক উচ্চপর্যায়ের আলোচনা ২১ ঘণ্টা চলার পরও ব্যর্থ হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে ৪৭ বছরের শত্রুতা মিটিয়ে ফেলার জন্য এই সময় যথেষ্ট ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন বিবিসির প্রধান আন্তর্জাতিক সংবাদদাতা লাইস ডুসেট।
পাকিস্তানের রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এই ম্যারাথন বৈঠকে মূলত ইরানের পরমাণু কর্মসূচি, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা হয়। বর্তমানে ইরানের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে রাখার কারণে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অর্থনৈতিক ধাক্কা লাগছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ভোরে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমরা ইরানের কাছ থেকে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি চেয়েছিলাম যে তারা নিউক্লিয়ার অস্ত্র তৈরি করবে না এবং সেজন্য প্রয়োজনীয় উপকরণও সংগ্রহ করবে না। কিন্তু তারা আমাদের শর্ত মেনে নেয়নি।” তিনি এটাকে ইরানের জন্য “খারাপ খবর” বলে অভিহিত করেন।
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র “অতিরিক্ত দাবি” ও “অযৌক্তিক শর্ত” দিয়েছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ জানান, “প্রতিপক্ষ ইরানি প্রতিনিধিদের আস্থা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে।” তবে ইরান আলোচনা চালিয়ে যেতে প্রস্তুত বলে ইঙ্গিত দিয়েছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার উভয় পক্ষকে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন এবং সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রাখার কথা বলেছেন।
বর্তমানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন — প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন কী করবেন? তিনি কি আবার আলোচনার টেবিলে ফিরবেন, নাকি সামরিক অভিযান বাড়াবেন? যুদ্ধবিরতি অব্যাহত রাখা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই আলোচনায় কোনো বড় অগ্রগতি হয়নি, তবে সম্পূর্ণ ভেঙেও যায়নি। এখন বিশ্ব ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছে।



Leave a Comment