এশিয়া কাপ ২০২৫-এর ফাইনাল ম্যাচে পাকিস্তানকে পরাজিত করে ভারত নবমবার শিরোপা জয়ের স্বাদ পেল। কিন্তু বিজয়ের পর ট্রফি গ্রহণের অনুষ্ঠানে এক অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটল—ভারতীয় ক্রিকেট দল এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) চেয়ারম্যান, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) প্রধান এবং পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী মোহসিন নকভির হাত থেকে বিজয়ী ট্রফি নিতে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। এই সিদ্ধান্ত বোর্ড অফ কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (বিসিসিআই)-এর নির্দেশনা অনুসারে নেওয়া হয়েছে বলে সূত্র জানাচ্ছে।
ম্যাচের হাইলাইটস: ভারতের দুর্দান্ত জয়
গতকাল (২৮ সেপ্টেম্বর) দুবাই ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করে পাকিস্তান ১৬৩ রানের স্কোর তৈরি করে। উত্তরে ভারত ৪ উইকেট হারিয়ে ১৬৭ রানের লক্ষ্য অর্জন করে বিজয়ী হয়। ক্যাপ্টেন সুর্যকুমার যাদবের দল এবারও প্রমাণ করল যে তারা এশিয়ান ক্রিকেটের রাজা। এটি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ৪১ বছর পর এশিয়া কাপ ফাইনাল।
কিন্তু মাঠের বাইরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ম্যাচের ছায়া ফেলল। ট্রফি অনুষ্ঠানে মোহসিন নকভি মঞ্চে উপস্থিত হলেও ভারতীয় খেলোয়াড়রা তার কাছ থেকে ট্রফি গ্রহণ করেনি। পরিবর্তে, অনুষ্ঠানটি এড়িয়ে যাওয়া বা অন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এক টুর্নামেন্ট অভ্যন্তরীণ সূত্র বলেছেন, “এখন পর্যন্ত তথ্য হলো, তিনি আজ সন্ধ্যায় আসবেন এবং এসিসি চেয়ারম্যান হিসেবে বিজয়ী ট্রফি দেবেন। বিসিসিআই কী সিদ্ধান্ত নেয় দেখা যাক।”
পটভূমি: ক্রিকেট মাঠে রাজনীতির ছায়া
এই ঘটনা আকস্মিক নয়। সম্পূর্ণ টুর্নামেন্ট জুড়ে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। ১৪ সেপ্টেম্বর গ্রুপ স্টেজ ম্যাচে ভারতের জয়ের পর ভারতীয় দল পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের সঙ্গে হ্যান্ডশেক করতে অস্বীকার করে। এমনকি ড্রেসিং রুমের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই ‘নো হ্যান্ডশেক’ পলিসি বিসিসিআই-এর নির্দেশে চালু।
মোহসিন নকভির ভূমিকা এখানে কেন্দ্রীয়। তিনি পিসিবি চেয়ারম্যান হিসেবে ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফটের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন যে, তিনি ভারত-পাক ম্যাচের পর হ্যান্ডশেক নিষিদ্ধ করেছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে। এছাড়া, নকভি ভারতীয় ক্যাপ্টেন সুর্যকুমার যাদবের বিরুদ্ধে লেভেল ৪ চার্জ ফাইল করেন। যাদব ফৌজিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পাহাড়গাম সন্ত্রাসী হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছিলেন, যা নকভি ‘বিতর্কিত’ বলে মনে করেন।
এমনকি, নকভি পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের ‘ভারতীয়দের সঙ্গে লড়াই করো, বোর্ড সব সামলাবে’ বলে উৎসাহিত করেছিলেন বলে পাকিস্তানি মিডিয়া জানায়। এছাড়া, তিনি ‘এক্স’-এ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর প্লেন ক্র্যাশ জেসচারের ভিডিও পোস্ট করে বিতর্ক সৃষ্টি করেন।
ভারতের অবস্থান: কোনো সমঝোতা নেই
বিসিসিআই এখনও অফিসিয়াল বিবৃতি দেয়নি, কিন্তু সূত্র বলছে, খেলোয়াড়রা নকভির সঙ্গে মঞ্চ শেয়ার করতে রাজি নন। এটি ক্রিকেটের চেয়ে বেশি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। এক সূত্র বলেন, “যদি ভারত ফাইনালে যায়, খেলোয়াড়রা নকভির সঙ্গে প্রেজেন্টেশন ডায়াস শেয়ার করবে না।”
কী হবে এরপর?
এই ঘটনা ভারত-পাক ক্রিকেট সম্পর্ককে আরও উত্তপ্ত করেছে। আইসিসি এবং এসিসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভক্তরা সোশ্যাল মিডিয়ায় এটিকে ‘ক্রিকেটের জন্য লজ্জার’ বলে সমালোচনা করছেন। তবে ভারতের জয়ের উল্লাসে এই বিতর্ক ছাপিয়ে যাচ্ছে। সুর্যকুমার যাদব বলেছেন, “আমরা আমাদের খেলায় মনোযোগী, বাকিটা বোর্ডের উপর ছেড়ে দিয়েছি।”
এশিয়া কাপ ২০২৫ শেষ হলেও, এর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। ক্রিকেটপ্রেমীরা অপেক্ষা করছেন, পরবর্তী ভারত-পাক সিরিজে কী ঘটবে!


