এশিয়া কাপ ২০২৫-এর ফাইনাল ম্যাচে ভারতীয় স্পিনারদের অসাধারণ পরিযোজনা পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপকে ধ্বংস করে দিয়েছে। টস জয় করে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া ভারত পাকিস্তানকে মাত্র ১৯.১ ওভারে ১৪৬ রানে আটকে রেখেছে। এর ফলে ভারতকে বিজয়ের জন্য মাত্র ১৪৭ রানের সহজ লক্ষ্য নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামতে হবে। কুলদীপ যাদবের ৪ উইকেটের হ্যাটট্রিক-লাইক পরিযোজনা এবং অক্ষর পটেল ও বরুণ চক্রবর্তীর সহায়তায় পাকিস্তান ১১৩/১ থেকে ১৪৬/১০-এ কুপিয়ে পড়ে, মাত্র ৩৩ রানে ৯ উইকেট হারায়।
ম্যাচের হাইলাইটস: দুর্দান্ত কল্যাণসাধন থেকে বিপর্যয়কর কল্যাণসাধন
গতকাল (২৮ সেপ্টেম্বর) দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনালে পাকিস্তানের উদ্বোধনকারী জুটি সাহিবজাদা ফারহান এবং ফখর জামান ৫৮ বলে ৮৪ রানের দুর্দান্ত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলে। ফারহান ৩৮ বলে অপরাজিত ৫৭ রান (৫ চার, ৩ ছক্কা) স্কোর করে, যখন জামান ৩৫ বলে ৪৬ রান (২ চার, ২ ছক্কা) তৈরি করেন। ১০ ওভারে পাকিস্তান ৮৭/১ ছিল, এবং ১৩তম ওভারে ১১৩/১-এ তারা ১৮০-এর ওপরে লক্ষ্য ভাবছিল। কিন্তু ভারতীয় স্পিনাররা মধ্যঅংশে ঝড় তুলে দেন।
পাওয়ারপ্লে শেষে পাকিস্তান ৪৫/০ ছিল, কিন্তু স্পিন জালে আটকে তারা ধসে পড়ে। কুলদীপ যাদব (৪/৩০) তার প্রথম ওভারে ১১ রান দিলেও পরে তিনটি উইকেট নেন, যার মধ্যে এক ওভারে তিন উইকেট! বরুণ চক্রবর্তী (২/৩০) প্রথম ব্রেকথ্রু দেন ফারহানকে আউট করে। অক্ষর পটেল (২/২৬) সঙ্গে সঙ্গে যোগ দেন। জাসপ্রিত বুমরাহ (২/২৫) শেষ দুটি উইকেট নেন, যার মধ্যে হারিস রউফকে ইয়র্কারে ধ্বংস করে প্লেন ক্র্যাশের অঙ্গভঙ্গি করে বিতর্ক সৃষ্টি করেন—যা পাকিস্তানি পেসারের আগের ম্যাচের জেসচারের প্রতিশোধ। স্পিনাররা ধীর গতির বল এবং অফ-সাইডে বোলিং করে পাকিস্তানি ব্যাটারদের হিটিং আর্কের বাইরে রাখেন।
সালমান আলি আঘা এবং হুসাইন তালাত হিট করে বেরোতে চেয়ে ব্যর্থ হন। এটি পাকিস্তানের দ্বিতীয়বারের মতো এমন কল্যাণসাধন, যা সুপার ফোর ম্যাচেও দেখা গিয়েছিল।
পটভূমি: হারদিকের অনুপস্থিতিতে স্পিনারদের দায়িত্ব
ভারতের অলরাউন্ডার হারদিক পান্ড্যের অনুপস্থিতিতে বোলিং আক্রমণ হালকা মনে হলেও স্পিনাররা দায়িত্ব নেন। ক্যাপ্টেন সুর্যকুমার যাদব টস জয় করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেন। পাকিস্তানের ব্যাটিং মধ্যঅংশে দুর্বলতা প্রকাশ পায়, যা ভারতের স্পিন জাদুতে আরও স্পষ্ট হয়। এই ম্যাচ ভারত-পাকিস্তানের ৪১ বছর পর এশিয়া কাপ ফাইনাল, যা রাজনৈতিক উত্তেজনার ছায়ায়ও খেলোয়াড়দের দক্ষতা প্রদর্শন করে।
ভারতীয় কোচ বলতে পারেন, “স্পিনারদের এই পরিযোজনা আমাদের জয়ের পথ সহজ করে দিয়েছে।” পাকিস্তান ক্যাপ্টেনের মুখে হতাশা স্পষ্ট, যদিও তারা শুরুতে আত্মবিশ্বাসী ছিল।
কী হবে এরপর?
ভারত এখন ১৪৭ রানের লক্ষ্য চেইজ করবে, যা তাদের নবমবার এশিয়া কাপ শিরোপা জয়ের সুযোগ দেয়। পাকিস্তানের এই কল্যাণসাধন তাদের টুর্নামেন্টের সেরা শুরু নষ্ট করে। ক্রিকেটপ্রেমীরা অপেক্ষায়, ভারত কি সহজেই বিজয়ী হবে, নাকি পাকিস্তানের বোলাররা প্রত্যাবর্তন করবে?


