৬জি প্রযুক্তির বাণিজ্যিক উন্মোচন ২০২৯-২০৩০ সালের দিকে হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কিন্তু এবার শুধু “আরও দ্রুত গতি” বা “আরও কম লেটেন্সি” নয়—এগুলো তো ৫জিরই উন্নত সংস্করণ। এরিকসনের সিটিও অফিসের বিশেষজ্ঞ রাজত কোচারের মতে, ইন্টিগ্রেটেড সেন্সিং অ্যান্ড কমিউনিকেশন (ISAC) হবে ৬জি-র প্রথম সত্যিকারের নতুন ফিচার যা অপারেটরদের জন্য আয়ের নতুন দরজা খুলে দেবে। এটি মোবাইল নেটওয়ার্ককে কেবল ডেটা পরিবহনের ‘ডাম্ব পাইপ’ থেকে পরিবেশকে ‘অনুভব’ করতে সক্ষম স্মার্ট সিস্টেমে রূপান্তরিত করবে—যেমন ড্রোন শনাক্তকরণ, যানবাহন ট্র্যাকিং বা পরিবেশের মানচিত্র তৈরি।
ISAC-এর মূল ধারণা হলো যোগাযোগ এবং সেন্সিং একই সিস্টেমে একত্রিত করা। বর্তমান সেলুলার নেটওয়ার্ক শুধু ডেটা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পাঠায়, কিন্তু চারপাশের পরিবেশ সম্পর্কে কিছুই জানে না। ISAC এই সীমাবদ্ধতা দূর করে বেস স্টেশনগুলোকে রাডারের মতো কাজ করতে সক্ষম করে। এটি সম্ভব হয়েছে মিলিমিটার ওয়েভ ফ্রিকোয়েন্সি এবং ম্যাসিভ MIMO প্রযুক্তির মিলনের কারণে, যা সেলুলার এবং রাডার উভয়েরই হার্ডওয়্যার একই রকম করে তুলেছে। ফলে একই অবকাঠামো ও স্পেকট্রাম ব্যবহার করে যোগাযোগের পাশাপাশি সেন্সিং করা যায়—খরচও অনেক কম পড়ে।
ISAC-এর ব্যবহারিক ক্ষেত্রগুলোতে স্পষ্ট আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, বিশেষ করে পাবলিক সেফটি, শিল্প অটোমেশন এবং পরিবহন খাতে। উদাহরণস্বরূপ, অননুমোদিত ড্রোন শনাক্তকরণে এটি বিমানবন্দর বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা বাড়াবে, যা মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগও অগ্রাধিকার দিচ্ছে। কারখানায় এজিভি ও রোবটের সঙ্গে মানুষের সংঘর্ষ এড়াতে রিয়েল-টাইম কলিশন এভয়েডেন্স প্রদান করবে, যার জন্য উদ্যোগগুলো প্রিমিয়াম মূল্য দিতে রাজি। এছাড়া ভি২এক্স প্রযুক্তিতে যানবাহন একই হার্ডওয়্যারে যোগাযোগ ও সেন্সিং করতে পারবে—এটি স্বয়ংক্রিয় গাড়ির ভবিষ্যতকে ত্বরান্বিত করবে।
যদিও সম্ভাবনা উজ্জ্বল, তবু কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে—যেমন ডেটা প্রাইভেসি, নিয়ন্ত্রক অনুমোদন, স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা এবং স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন। তবে ৫জি-অ্যাডভান্সডের মাধ্যমে এটি শিগগিরই বাস্তবায়নযোগ্য। অপারেটররা এখনই ৩জিপিপি রিলিজ ১৯-এর আলোচনায় যোগ দিয়ে এবং পাইলট প্রকল্প চালিয়ে ৬জি-র নেতৃত্ব নিতে পারেন। ISAC শুধু প্রযুক্তি নয়, এটি অপারেটরদের জন্য নতুন রাজস্ব মডেলের ভিত্তি।


