গুগলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তাদের ফায়ারবেস ডেটা সংগ্রহ সিস্টেমের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা লঙ্ঘন করা হয়েছে। এই সিস্টেম অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস অ্যাপে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। ২০২০ সালের জুলাইয়ে অ্যানিবাল রড্রিগেজ নামক একজন ব্যবহারকারীর দায়ের করা ক্লাস অ্যাকশন মামলায় প্রায় ৯৮ মিলিয়ন ব্যবহারকারীকে প্রতিনিধিত্ব করা হয়। মামলায় দাবি করা হয়, গুগলের “ওয়েব অ্যান্ড অ্যাপ অ্যাকটিভিটি” সেটিং অফ করা সত্ত্বেও ফায়ারবেসের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের ডেটা সংগ্রহ করা হয়েছে, যা প্রতারণার শামিল।
আদালতের রায়
ইউএস জেলেড কোর্টের জুরি গুগলকে ৪২৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছে। এই রায়ে প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবহারকারী গড়ে ৪ ডলার পাবেন। জুরির একজন সদস্য বলেছেন, গুগলের গোপনীয়তা নীতি সম্পর্কে স্পষ্ট যোগাযোগের অভাব ছিল, কারণ ব্যবহারকারীরা সাধারণত বিস্তারিত পড়েন না। গুগলের মুখপাত্র জোসে কাস্তানেডা দাবি করেছেন, তাদের গোপনীয়তা টুলস ব্যবহারকারীদের ডেটা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দেয়, এবং তারা ব্যবহারকারীর পছন্দকে সম্মান করে।
ফায়ারবেসের ভূমিকা
ফায়ারবেস শীর্ষ ১০০০ অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপের ৯৭% এবং আইওএস অ্যাপের ৫৪% এ ব্যবহৃত হয়। উবার, ভেনমো, শাজাম, নিউ ইয়র্ক টাইমস, ডুওলিঙ্গো এবং ইনস্টাগ্রামের মতো জনপ্রিয় অ্যাপগুলো এই সিস্টেম ব্যবহার করে। মামলায় প্রকাশ পেয়েছে যে, গুগল ইচ্ছাকৃতভাবে ডেটা সংগ্রহের বিষয়ে অস্পষ্ট ছিল, যাতে ব্যবহারকারীরা চিন্তিত না হন।
গুগলের পূর্ববর্তী আইনি সমস্যা
গুগলের গোপনীয়তা-সম্পর্কিত সমস্যা এটিই প্রথম নয়। ২০২৩ সালে, ৪০টি রাজ্যের সাথে ৩৯২ মিলিয়ন ডলার, ওয়াশিংটনের সাথে ৪০ মিলিয়ন এবং অ্যারিজোনার সাথে ৮৫ মিলিয়ন ডলারের সমঝোতা হয় লোকেশন ট্র্যাকিং নিয়ে। একই বছরে ইনকগনিটো মোড সংক্রান্ত মামলায় গুগল ৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের রেকর্ড মুছে ফেলার প্রতিশ্রুতি দেয়। ২০২৫ সালের মে মাসে, টেক্সাসের সাথে ১.৩৮ বিলিয়ন ডলারের সমঝোতা হয়।
ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
গুগল এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার পরিকল্পনা করেছে, যার ফলে আইনি প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা ব্যবহারকারীদের পরামর্শ দিচ্ছেন যে, তারা গোপনীয়তা রক্ষার জন্য প্রাইভেসি ভিপিএন ব্যবহার করুন এবং সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে শেয়ার না করুন। এই ঘটনা বড় টেক কোম্পানিগুলোর গোপনীয়তা দাবির প্রতি ব্যবহারকারীদের সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে।সূত্র: Malwarebytes


