মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে কাতারের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় কাতার এয়ারওয়েজ তাদের সমস্ত ফ্লাইট অস্থায়ীভাবে স্থগিত রেখেছে। এই সাসপেনশন ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে এবং অন্তত ১০ মার্চ পর্যন্ত চলতে পারে, যা হাজার হাজার যাত্রীকে প্রভাবিত করছে। কাতার সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটি (কিউসিএএ) আকাশসীমা নিরাপদভাবে খুলে না দেওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট চালু হবে না।
সংঘাতের পটভূমি
এই বিমান চলাচল বন্ধের মূল কারণ হলো মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের যৌথ অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-তে ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু ঘটেছে, যা এই অঞ্চলে যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এর ফলে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এবং অন্যান্য গাল্ফ দেশের আকাশসীমা বন্ধ হয়ে গেছে। দুবাই, আবু ধাবি এবং দোহার মতো প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, যার মধ্যে কাতার এয়ারওয়েজের ফ্লাইটগুলো সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত। ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুসারে, গাল্ফের সাতটি প্রধান বিমানবন্দর থেকে ২,০০০-এরও বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
এই সংঘাতের কারণে ইউরোপ-এশিয়া রুটের অনেক ফ্লাইট ডাইভার্ট হচ্ছে বা বাতিল হচ্ছে। ভারত থেকে ইউরোপ বা আমেরিকা যাওয়ার অনেক যাত্রীও প্রভাবিত, যেমন এয়ার ইন্ডিয়ার কয়েকটি ফ্লাইট সাসপেন্ড হয়েছে। কাতার এয়ারওয়েজের মতো অন্যান্য গাল্ফ ক্যারিয়ার যেমন এমিরেটস এবং ইতিহাদও একই সমস্যায় পড়েছে, যদিও কিছু ক্যারিয়ার ধীরে ধীরে ফ্লাইট চালু করতে শুরু করেছে।
যাত্রীদের জন্য কাতার এয়ারওয়েজের ব্যবস্থা
কাতার এয়ারওয়েজ তাদের অফিসিয়াল এক্স (পূর্বের টুইটার) অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টে জানিয়েছে যে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ মার্চের মধ্যে কনফার্মড বুকিং থাকা যাত্রীরা নিম্নলিখিত সুবিধা পাবেন:
- কমপ্লিমেন্টারি ডেট চেঞ্জ: অরিজিনাল ট্রাভেল ডেট থেকে ১৪ দিনের মধ্যে ফ্লাইটের তারিখ পরিবর্তন করা যাবে, কোনো অতিরিক্ত চার্জ ছাড়াই।
- রিফান্ড: টিকিটের অব্যবহৃত অংশের সম্পূর্ণ রিফান্ড পাওয়া যাবে।
যাত্রীরা কাতার এয়ারওয়েজের ওয়েবসাইট (qatarairways.com) বা অ্যাপের মাধ্যমে তাদের বুকিং ম্যানেজ করতে পারবেন। তবে, কল সেন্টারে উচ্চ কল ভলিউমের কারণে অপেক্ষার সময় বেশি হতে পারে। কোম্পানি সাজেস্ট করেছে যে, শুধুমাত্র পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ট্রাভেল করা যাত্রীরা কল করুন। ট্রাভেল এজেন্ট বা থার্ড-পার্টি ওয়েবসাইট থেকে বুক করা টিকিটের ক্ষেত্রে সেই এজেন্টের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।
দোহায় আটকে পড়া যাত্রীদের জন্য অফিসিয়াল আপডেট পেজ (qatarairways.com/travel-alerts) চেক করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোম্পানি পরবর্তী আপডেট ৪ মার্চ সকাল ৯টা (দোহা সময়) প্রকাশ করবে।
যাত্রীদের প্রতিক্রিয়া এবং চ্যালেঞ্জ
সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক যাত্রী অভিযোগ করেছেন যে, কল সেন্টারে যোগাযোগ করা কঠিন, রিফান্ড প্রক্রিয়া ধীরগতির এবং ওয়েবসাইটে পরিবর্তন করা যাচ্ছে না। উদাহরণস্বরূপ, একজন যাত্রী বলেছেন, “আমার ফ্লাইট ক্যানসেল হয়েছে, কিন্তু ফুল রিফান্ড পাচ্ছি না।” অন্যরা অভিযোগ করেছেন যে, কয়েক মাস ধরে অভিযোগের সমাধান হয়নি। তবে, কিছু যাত্রী অন্য দেশের কল সেন্টার (যেমন নিউজিল্যান্ড) থেকে সাহায্য পেয়েছেন।
গ্লোবাল প্রভাব
এই সাসপেনশন গ্লোবাল এয়ার ট্রাভেলকে প্রভাবিত করছে। ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইউরোপ এবং আমেরিকার যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংঘাত যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে এয়ার ফেয়ার বাড়তে পারে এবং ট্রাভেল ইন্ডাস্ট্রি ক্ষতির মুখে পড়বে।
যাত্রীরা সর্বশেষ আপডেটের জন্য কাতার এয়ারওয়েজের ওয়েবসাইট বা অ্যাপ চেক করুন। এই পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল, তাই সতর্ক থাকুন।


