মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ সংকুচিত হচ্ছে। এর মধ্যেই চীনের অন্যতম বৃহত্তম রিফাইনারি Zhejiang Petrochemical Corp (জেডপিসি) একটি ২০০,০০০ ব্যারেল প্রতিদিনের ক্রুড ইউনিট অস্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিচ্ছে। এই রিফাইনারিটি সৌদি আরামকো-সমর্থিত এবং চীনের সবচেয়ে বড় রিফাইনারিগুলির মধ্যে একটি। রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে কোম্পানির একজন প্রতিনিধি জানিয়েছেন, মার্চ মাসে এক মাসব্যাপী রক্ষণাবেক্ষণ (মেইনটেন্যান্স) কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে রিফাইনারির সামগ্রিক থ্রুপুট (প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা) ২০ শতাংশ কমে যাবে। জেডপিসি রিফাইনারির নামপ্লেট ক্ষমতা ৮০০,০০০ ব্যারেল প্রতিদিন। ফেব্রুয়ারি মাসে এটি এর নির্ধারিত ক্ষমতার চেয়েও বেশি চালানো হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। এখন সংঘাতের কারণে তেলের সরবরাহে চাপ পড়ায় এই রক্ষণাবেক্ষণ কাজকে ত্বরান্বিত করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রভাব
ইউএস-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের ফলে হরমুজ প্রণালীতে প্রায় সমস্ত শিপিং বন্ধ হয়ে গেছে। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয়। ইরানের সুপ্রিম লিডারের মৃত্যুর পর এই অঞ্চলে যুদ্ধ আরও তীব্র হয়েছে, যার ফলে তেলের জাহাজ চলাচল প্রায় থেমে গেছে।
চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল আমদানিকারক দেশ। এর প্রায় অর্ধেক অপরিশোধিত তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে। সরবরাহ সংকট এবং তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে অন্যান্য রিফাইনারিগুলোও উৎপাদন কমাতে পারে বলে শিল্প সূত্র জানিয়েছে। তবে চীনের রিফাইনারিগুলো এখনও কিছুটা সুরক্ষিত। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও রাশিয়া থেকে রেকর্ড পরিমাণ তেল কেনা হয়েছে এবং সরকারি স্টকপাইল (মজুত) বাড়ানো হয়েছে। এতে স্বল্পমেয়াদী সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। দীর্ঘমেয়াদী সংকট হলে উৎপাদন আরও কমাতে হতে পারে।
গ্লোবাল তেল বাজারে প্রভাব
হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় তেলের দাম ইতিমধ্যে বেড়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হয় তাহলে দাম আরও বাড়তে পারে। এশিয়ার অন্যান্য রিফাইনারিরাও (যেমন জাপান, ভারত) উৎপাদন কমানোর কথা ভাবছে। জেডপিসি-র এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে তেল শিল্পে নতুন চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে। পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল, তাই বাজার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

