মার্সিডিজ-বেঞ্জ ভি-ক্লাস ভারতীয় বাজারে ফিরে এসেছে এক নতুন অবতারে। ২ মার্চ ২০২৬-এ আনুষ্ঠানিকভাবে লঞ্চ হওয়া এই প্রিমিয়াম ভ্যানটি শুধু একটি গাড়ি নয়, বরং একটি মোবাইল লাক্সারি লাউঞ্জ। এক্স-শোরুম প্রাইস ₹১.৪০ কোটি (পেট্রোল ও ডিজেল উভয় ভার্সনে) থেকে শুরু হওয়ায় এটি লেক্সাস এলএম, টয়োটা ভেলফায়ার এবং এমজি এম৯-এর মতো প্রতিযোগীদের সঙ্গে সরাসরি লড়াই করবে। পুনের চাকান প্ল্যান্টে লোকাল অ্যাসেম্বলি হওয়ায় খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে, এবং মার্চের শেষের দিকে ডেলিভারি শুরু হবে। বুকিং ইতিমধ্যে চলছে এবং বিদ্যমান মার্সিডিজ গ্রাহকদের প্রায়োরিটি দেওয়া হচ্ছে।
অফিসিয়াল ওভারভিউ অনুসারে, ভি-ক্লাসকে এখন শুধুমাত্র এক্সট্রা-লং হুইলবেস (ইএলডব্লিউবি) ভার্সনে পাওয়া যাচ্ছে। এর হুইলবেস ৩,৪৩০ মিলিমিটার, যা কেবিনে অসাধারণ লেগরুম ও স্পেস তৈরি করে। মোট লেংথ প্রায় ৫,৩৭০ মিলিমিটার, উইডথ ১,৯২৮ মিলিমিটার এবং হাইট ১,৮৮০ মিলিমিটার। এই বিশাল আকারের কারণে রাস্তায় এর প্রেজেন্স অবশ্যই চোখে পড়ার মতো।
এক্সটেরিয়র ডিজাইন: এএমজি লাইন স্টাইলিং স্ট্যান্ডার্ড
ভি-ক্লাসের বাইরের ডিজাইন পুরোপুরি এএমজি লাইন স্টাইলিংয়ে সাজানো। সামনে দেখা যায় বড় ইউ-শেপড ইলুমিনেটেড গ্রিল, যেখানে ত্রি-পয়েন্টেড স্টার লোগোর চারপাশে এলইডি লাইটিং। ডুয়াল-পড মাল্টি-বিম এলইডি হেডলাইট, স্লিম ডেয়টাইম রানিং লাইট এবং স্পোর্টি বাম্পার এটিকে আধুনিক ও আক্রমণাত্মক লুক দিয়েছে। সাইড প্রোফাইলে ডুয়াল-টোন ১৮-ইঞ্চি অ্যালয় হুইল, পাওয়ার্ড স্লাইডিং ডোর এবং ক্রোম অ্যাকসেন্ট। পিছনে ভার্টিক্যাল এলইডি টেললাইট, স্লিম বাম্পার এবং রুফ স্পয়লার। গ্রিন-টিন্টেড গ্লাস, ল্যামিনেটেড উইন্ডশিল্ড এবং রুফ রেল এটিকে আরও প্রিমিয়াম করে তুলেছে। অফিসিয়াল পেজ অনুসারে, এয়ারম্যাটিক সাসপেনশনের সঙ্গে ১৮-ইঞ্চি ১০-স্পোক লাইট-অ্যালয় হুইলস এর রাইড কোয়ালিটি অসাধারণ করে তোলে।
ইন্টেরিয়র: মোবাইল প্রাইভেট স্যুট
ভি-ক্লাসের কেবিনে ঢুকলেই বোঝা যায় কেন এটি লাক্সারি ভ্যান। এটি ৪-সিটার বা ৬-সিটার কনফিগারেশনে পাওয়া যায়। দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারির সিটগুলোকে তিনভাবে অ্যাডজাস্ট করা যায়—ফরোয়ার্ড ফেসিং, কনফারেন্স স্টাইল (একের বিপরীতে) বা তৃতীয় সারি রিমুভ করে। ক্যাপ্টেন চেয়ারগুলোতে ইলেকট্রিক্যালি অ্যাডজাস্টেবল রিক্লাইন, ম্যাসাজ, ভেন্টিলেশন, হিটিং এবং এক্সটেন্ডেবল লেগ সাপোর্ট রয়েছে। ফ্রন্ট সিটেও একই সুবিধা।
কেবিনে দুটি কালার স্কিম—অল-ব্ল্যাক বা ব্ল্যাক-বেইজ ডুয়াল-টোন। লেদার আপহোলস্ট্রি, সফট-টাচ ম্যাটেরিয়াল, উড ও ব্রাশড সিলভার ট্রিম। ড্যাশবোর্ডে টুইন ১২.৩-ইঞ্চি ডিজিটাল ডিসপ্লে (ড্রাইভার ইন্সট্রুমেন্ট + মিডিয়া), এমবিইউএক্স ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম, “হেই মার্সিডিজ” ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট। ৬৪-কালার অ্যাম্বিয়েন্ট লাইটিং, থ্রি-জোন অটোমেটিক ক্লাইমেট কন্ট্রোল, রিয়ার সানশেড, ওয়্যারলেস চার্জিং এবং ইউএসবি-সি পোর্ট। অডিওর জন্য ১৫-স্পিকার বার্মেস্টার সাউন্ড সিস্টেম। এনার্জাইজিং কমফোর্ট প্যাকেজে ১১টি প্রোগ্রাম রয়েছে যা ক্লাইমেট, লাইটিং, সাউন্ড ও সিট ফাংশন মিলিয়ে পারফেক্ট অ্যাটমোস্ফিয়ার তৈরি করে। রুফ লাইনার (পোর্সেলিন বা ব্ল্যাক) থার্মাল ইনসুলেশন ও অ্যাকোস্টিক কমফোর্ট বাড়ায়।
ইঞ্জিন ও পারফরম্যান্স
দুটি পাওয়ারট্রেন অপশন:
- পেট্রোল: ২.০-লিটার টার্বো (এম২৫৪) + মাইল্ড-হাইব্রিড, ২৩১ পিএস + ২০ পিএস ইলেকট্রিক, টর্ক ৩৭০ এনএম + ২০০ এনএম।
- ডিজেল: ২.০-লিটার টার্বো, ২৩৭ পিএস, টর্ক ৫০০ এনএম।
দুটোতেই ৯-স্পিড টর্ক-কনভার্টার অটোমেটিক ট্রান্সমিশন। পেট্রোলে বুস্ট ও রিকুপারেশন ফাংশন দিয়ে অ্যাক্সিলারেশন ভালো এবং ফুয়েল এফিশিয়েন্সি বাড়ে। এয়ারম্যাটিক এয়ার সাসপেনশন রাইডকে আরও কম্ফর্টেবল ও স্টেবল করে—হাইওয়ে বা অফ-রোডে একইভাবে দারুণ।
ফিচার্স ও টেকনোলজি
এমবিইউএক্স সিস্টেম, টাচপ্যাড, ওয়াইডস্ক্রিন ককপিট, ওয়্যারলেস অ্যাপল কারপ্লে ও অ্যান্ড্রয়েড অটো। রিয়ার এন্টারটেইনমেন্ট স্ক্রিন (অপশনাল), পাওয়ার্ড ফ্রন্ট ও রিয়ার সিট, কাপ হোল্ডার, কোট হুক—সবকিছু আছে। টাচপ্যাড ও ভয়েস কন্ট্রোল দিয়ে অপারেশন সহজ।
সেফটি: সর্বোচ্চ স্তরের সুরক্ষা
স্ট্যান্ডার্ড ৭টি এয়ারব্যাগ (সেন্টার এয়ারব্যাগসহ), অ্যাকটিভ ব্রেক অ্যাসিস্ট, অ্যাকটিভ ডিসট্যান্স অ্যাসিস্ট ডিসট্রনিক, ব্লাইন্ড স্পট অ্যাসিস্ট, অ্যাকটিভ লেন কিপিং অ্যাসিস্ট, হেডলাইট অ্যাসিস্ট, ৩৬০-ডিগ্রি ক্যামেরা, টায়ার প্রেশার মনিটরিং, ইলেকট্রনিক স্টেবিলিটি প্রোগ্রাম। ড্রাইভার ক্যামেরা চোখের মুভমেন্ট মনিটর করে অ্যাটেনশন অ্যাসিস্টের সঙ্গে ক্লান্তি সনাক্ত করে ওয়ার্নিং দেয়। ইউরো এনক্যাপে ফাইভ-স্টার রেটিং।
প্রাইসিং, ভ্যারিয়েন্ট ও কালার
শুধুমাত্র একটি ফুলি-লোডেড ট্রিম—ভি ৩০০ এএমজি লাইন এক্সট্রা লং। পেট্রোল ও ডিজেল উভয়ই ₹১.৪০ কোটি। অন-রোড প্রাইস প্রায় ₹১.৬২-১.৬৫ কোটি। পাঁচটি কালার: সোডালাইট ব্লু, অবসিডিয়ান ব্ল্যাক, রক ক্রিস্টাল হোয়াইট, হাই-টেক সিলভার, আলপাইন গ্রে।
কার জন্য এই ভি-ক্লাস?
বড় পরিবার, বিজনেস এক্সিকিউটিভ বা যারা লাক্সারি ট্রাভেল চান, তাদের জন্য আদর্শ। টয়োটা ভেলফায়ারের তুলনায় আরও প্রিমিয়াম ফিল, লেক্সাস এলএমের তুলনায় ভালো ভ্যালু ফর মানি। এয়ারম্যাটিক সাসপেনশন, এনার্জাইজিং প্যাকেজ এবং বিশাল স্পেস এটিকে অনন্য করে। তবে সানরুফ নেই, রিয়ার উইন্ডো খোলা যায় না—এটি একটি ছোট খামতি।
উপসংহারে বলা যায়, মার্সিডিজ-বেঞ্জ ভি-ক্লাস ২০২৬ শুধু একটি ভ্যান নয়, এটি একটি স্টেটমেন্ট। বিলাসবহুলতা, সুরক্ষা, কমফোর্ট এবং পারফরম্যান্সের নিখুঁত সমন্বয়। যদি আপনার বাজেট ₹১.৪ কোটির উপরে থাকে এবং প্রিমিয়াম এমপিভি চান, তাহলে এটি অবশ্যই টেস্ট ড্রাইভ করুন। ডিলারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্রোশিয়ার দেখুন বা কনফিগারেটরে কাস্টমাইজ করুন। মার্সিডিজ-বেঞ্জের এই নতুন অফার ভারতীয় লাক্সারি সেগমেন্টকে আরও উন্নত করবে নিঃসন্দেহে।

