ভারতের অর্থনৈতিক রূপান্তরের কেন্দ্রীয় চরিত্র ছিলেন ড. মনমোহন সিং। তাঁর স্মৃতিতে ও.পি. জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি (জেজিইউ)-এর জিন্দাল স্কুল অফ গভর্নমেন্ট অ্যান্ড পাবলিক পলিসি (জেএসজিপি) দ্বারা আয়োজিত প্রথম ড. মনমোহন সিং স্মৃতি বক্তৃতায় পরিকল্পনা কমিশনের সাবেক উপাধ্যক্ষ ড. মনটেক সিং আহলুয়ালিয়া ‘বিকসিত ভারতের জন্য আমাদের প্রয়োজনীয় নীতিমালা’ (The Policy Agenda We Need for Viksit Bharat) বিষয়ে গভীর বিশ্লেষণাত্মক বক্তব্য রাখেন। এই অনুষ্ঠানটি ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা ড. মনমোহন সিং-এর জন্মবার্ষিকীর সঙ্গে মিলিত।


অনুষ্ঠানের শুরু হয় ড. মনমোহন সিং-এর প্রতি ফুলের মাল্যার্পণ এবং প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে। ড. আহলুয়ালিয়া তাঁর বক্তৃতায় ১৯৯১ সালের অর্থনৈতিক সংস্কারের ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোকে পুনরায় স্মরণ করেন, যা ড. সিং-এর নেতৃত্বে ভারতকে সংকট থেকে উদ্ধার করে দেয়। তিনি বলেন, এই সংস্কারগুলো কেবল ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং ভারতের ভবিষ্যতের জন্য অমূল্য শিক্ষা প্রদান করে। প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্মাণের জন্য নেতাদের বুদ্ধি এবং সাহসের প্রয়োজন হয়, যা ১৯৯১-এর সময় ড. সিং দেখিয়েছিলেন।
ড. আহলুয়ালিয়া জোর দিয়ে বলেন, বিকসিত ভারতের লক্ষ্য অর্জনের জন্য আমাদের নীতিমালাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। তিনি ড. মনমোহন সিং-এর অবদানকে স্মরণ করে বলেন, তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি এবং নেতৃত্ব ভারতের অর্থনৈতিক রূপান্তরের ভিত্তি স্থাপন করেছে। এই বক্তৃতা শুধু ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য চিন্তাভাবনা জাগানোর একটি উপলক্ষ। জেজিইউ-এর অফিসিয়াল পোস্ট অনুসারে, এটি ড. সিং-এর অসাধারণ উত্তরাধিকারের প্রতি একটি শ্রদ্ধাঞ্জলি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছাত্র-শিক্ষক এবং বিশেষজ্ঞরা ড. আহলুয়ালিয়ার বক্তব্যকে উচ্চ প্রশংসা করেছেন। জিন্দাল গ্লোবাল ল ক্ল স্কুলের একটি পোস্টে বলা হয়েছে, এই বক্তৃতা ভারতের ভবিষ্যত নীতিনির্মাণের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক। একজন উপস্থিত ব্যক্তি টুইট করে বলেছেন, “১৯৯১-এর সংস্কারের গল্প শুনে ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষা নেওয়া যায়। প্রমাণভিত্তিক নীতি নেতাদের বুদ্ধি ও সাহস চায়!”
ড. মনমোহন সিং (১৯৩২-২০২৪) ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রী হিসেবে দেশের অর্থনীতিকে নতুন দিগন্তে নিয়ে যান। তাঁর নেতৃত্বে ১৯৯১-এর উদারীকরণ সংস্কার ভারতকে বিশ্ব অর্থনীতির মানচিত্রে স্থান করে দিয়েছে। এই স্মৃতি বক্তৃতা সিরিজটি তাঁর উত্তরাধিকারকে স্মরণ করে ভবিষ্যত প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করার উদ্দেশ্যে শুরু হয়েছে। জেজিইউ এই অনুষ্ঠানকে বার্ষিক ইভেন্ট হিসেবে চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে।
এই অনুষ্ঠানটি ড. সিং-এর জন্মবার্ষিকীতে অনুষ্ঠিত হওয়ায় বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা এবং অর্থনীতিবিদরা সামাজিক মাধ্যমে তাঁর অবদানকে স্মরণ করেছেন, যেমন এমজিএনআরইজিএ, আরটিআই, নিউক্লিয়ার ডিলসহ বিভিন্ন সংস্কার।


