এডিএল ‘হেট গ্রুপ’ তালিকা প্রত্যাহার: টিপিইউএসএ বাদ, বিতর্ক ছড়াল

আমেরিকার স্বনামধন্য সংস্থা অ্যান্টি-ডিফামেশন লীগ (এডিএল) তার ‘গ্লোসারি অফ এক্সট্রিমিজম অ্যান্ড হেট’ নামক বিশাল তালিকা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করেছে। এই তালিকায় টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ (টিপিইউএসএ) নামক রক্ষণশীল ছাত্র সংগঠনকে ‘হেট গ্রুপ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল, যা ইলন মাস্ক, রিপাবলিকান নেতাদের মতো ব্যক্তিদের তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। এই ঘটনা টিপিইউএসএ-র সহ-প্রতিষ্ঠাতা চার্লি কির্কের হত্যার প্রায় তিন সপ্তাহ পর ঘটেছে, যা বিতর্ককে আরও উত্তপ্ত করেছে।

এডিএল-এর এই সিদ্ধান্ত মঙ্গলবার ঘোষণা করা হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, এটি তাদের গবেষণা এবং তথ্য উপস্থাপনের নতুন কৌশলগুলো খুঁজে বের করার জন্য করা হয়েছে, যাতে তারা অ্যান্টি-সেমিটিজম এবং হেটের বিরুদ্ধে আরও কার্যকরভাবে লড়াই চালাতে পারে। তালিকাটি বছরের পর বছর ধরে তৈরি হয়েছিল এবং এতে ১,০০০-এরও বেশি এন্ট্রি ছিল, যার মধ্যে চরমপন্থী গ্রুপ, ব্যক্তি এবং সংগঠনের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল।

পটভূমি: টিপিইউএসএ কেন তালিকায় এসেছিল?

টিপিইউএসএ, যা চার্লি কির্ক এবং ক্যান্ডেস ওয়াটস দ্বারা ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, রক্ষণশীল মূল্যবোধ প্রচার করে আসছে। এডিএল-এর তালিকায় এটিকে ‘সেন্টার অফ এক্সট্রিমিজম’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, যেখানে বলা হয়েছে যে এই সংগঠনের ডানপন্থী চরমপন্থী, অ্যান্টি-মুসলিম বিদ্বেষক, অল্ট-লাইট অ্যাকটিভিস্ট এবং সাদা জাতিগত উচ্চতাবাদীদের সাথে যোগাযোগ রয়েছে। তালিকায় ২০১৫ সাল থেকে টিপিইউএসএ-র সদস্য বা ইভেন্ট স্পিকারদের বিতর্কিত বক্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে এবং ‘ক্রিশ্চিয়ান ন্যাশনালিজম’ প্রচারের কথাও বলা হয়েছে।

তবে তালিকায় স্পষ্ট করা হয়েছিল যে, কোনো গ্রুপ বা ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা মানে তারা অবৈধ বা হিংসাত্মক কাজে জড়িত—এটি শুধুমাত্র এডিএল-এর বিচারে তাদের চরমপন্থী দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। অন্যান্য গ্রুপ যেমন নেশন অফ ইসলাম, প্রাউড বয়েজ এবং ওয়াথ কিপার্সও তালিকায় ছিল। কিন্তু অ্যান্টিফা বা ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটারের মতো বিতর্কিত গ্রুপগুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল না, যা সমালোচকদের মতে পক্ষপাতিত্বের ইঙ্গিত দেয়। এডিএল স্বীকার করেছে যে কিছু এন্ট্রি ‘আউটডেটেড’ ছিল, যদিও নির্দিষ্ট উদাহরণ দেওয়া হয়নি।

বিতর্কের উত্তাপ: মাস্ক, লুনা এবং অন্যান্যদের প্রতিক্রিয়া

এই তালিকা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে চার্লি কির্কের হত্যার পর, যা ইউটা ভ্যালি ইউনিভার্সিটিতে ঘটেছিল। টেসলা সিইও ইলন মাস্ক এক্স (পূর্বের টুইটার)-এ লিখেছেন, “এডিএল খ্রিস্টানদের ঘৃণা করে,” যা এটিকে একটি ‘হেট গ্রুপ’ করে তোলে। তিনি আরও যোগ করেছেন, “এমন মিথ্যা এবং অপমানজনক লেবেল ব্যবহার করে মানুষ এবং সংগঠনের বিরুদ্ধে হত্যাকে উৎসাহিত করা হয়।”

ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেসওম্যান আনা পলিনা লুনা এক্স-এ লিখেছেন, “‘আমেরিকা ফার্স্ট’ হেট স্পিচ নয়। টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ কোনো হেট গ্রুপ নয়।” তিনি এডিএল-এর অ্যাকাউন্টকে ট্যাগ করে এই বক্তব্য দিয়েছেন। এই প্রতিক্রিয়াগুলোর মধ্যে রিপাবলিকান নেতাদেরও সমর্থন ছিল, যারা এডিএল-এর পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন।

ফক্স নিউজ ডিজিটাল এডিএল-এর সাথে যোগাযোগ করেছিল মন্তব্যের জন্য, কিন্তু প্রকাশের সময় পর্যন্ত কোনো সাড়া পায়নি।

এডিএল-এর সাড়া: নতুন পথের খোঁজ

এডিএল এক্স-এ ঘোষণা করেছে, “এটি আমাদেরকে নতুন কৌশল এবং সৃজনশীল পদ্ধতি অন্বেষণ করতে সাহায্য করবে যাতে আমরা আমাদের তথ্য এবং গবেষণা আরও কার্যকরভাবে উপস্থাপন করতে পারি। এটি আমাদেরকে ফোকাস করতে সাহায্য করবে যাতে আমরা যা সবচেয়ে ভালো করি তা করতে পারি: অ্যান্টি-সেমিটিজম এবং হেটের বিরুদ্ধে সবচেয়ে প্রভাবশালী উপায়ে লড়াই করা।”

তালিকার হোমপেজে বলা হয়েছিল, “এই ডাটাবেসে অন্তর্ভুক্ত হওয়া মানে ব্যক্তি বা গ্রুপগুলো অবৈধ বা হিংসাত্মক কাজে জড়িত—বরং এডিএল-এর বিচারে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি চরমপন্থী হিসেবে বিবেচিত হয়।”

ফলাফল: একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি?

এই প্রত্যাহারের ফলে টিপিএসইউএসএ-র মতো সংগঠনের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো কতটা প্রভাবিত হবে তা দেখার বিষয়। এডিএল এখন নতুন উপায় খুঁজছে তার গবেষণা উপস্থাপনের, যা রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে হেট স্পিচ এবং চরমপন্থার সংজ্ঞা নিয়ে আরও আলোচনার সূত্রপাত করতে পারে। চার্লি কির্কের হত্যার পর ইউটা গভর্নর টিপিইউএসএ-র ফিরে আসাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন, যা এই বিতর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে।

Source: link

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Exit mobile version