আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টকে আহ্বান জানানো হয়েছে যাতে দেশের শক্তি শিল্পের উপর চলমান ‘জলবায়ু আইনি যুদ্ধ’ (ক্লাইমেট লফেয়ার) থামানো যায়। পরিবেশবাদী গ্রুপগুলোর নেতৃত্বে নীল রাজ্য এবং শহরগুলো শক্তি কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে বিশালকায় মামলা দায়ের করছে, যাতে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির জন্য কোটি কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি করা হচ্ছে। এই মামলাগুলো ফেডারেল সরকারের পরিবেশ নীতির উপর রাজ্যগুলোর অনধিকারী হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, এবং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শক্তি শিল্পের উপর এক ধরনের ‘অর্থনৈতিক শোষণ’।
Watch the latest video at foxnews.comফক্স নিউজের একটি মতামত প্রবন্ধে বলা হয়েছে, পরিবেশবাদীরা কংগ্রেস বা নির্বাচনের মাধ্যমে নীতি পরিবর্তন না করে আদালতে ছুটে গেছে। তারা তামাক এবং অপিওয়েড মামলার থিওরি ধার করে শক্তি কোম্পানিগুলোকে অভিযুক্ত করছে যে, তারা জলবায়ু ঝুঁকির কথা গ্রাহকদের কাছে প্রকাশ করেনি। এই মামলাগুলো ফেডারেল কর্তৃপক্ষের অধিকারের উপর আঘাত হানছে, যা আন্তঃরাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ করে।
মূল মামলাগুলো: কোলোরাডো থেকে হাওয়াই
সবচেয়ে আলোচিত মামলা হলো কোলোরাডোর বোল্ডার কাউন্টি বনাম সানকোর এনার্জি। এই বছর কোলোরাডো সুপ্রিম কোর্ট এই মামলাকে রাজ্য আদালতে এগিয়ে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে। বোল্ডার দাবি করেছে যে, শক্তি কোম্পানিগুলো তাদের পণ্য বিক্রি করার সময় জলবায়ু ঝুঁকির কথা লুকিয়েছে, যা আবহাওয়া-সম্পর্কিত ক্ষয়ক্ষতির জন্য দায়ী। এই মামলা সুপ্রিম কোর্টের কাছে পৌঁছাতে পারে, যেখানে ফেডারেল কর্তৃত্বের প্রশ্ন উঠবে।
হাওয়াইয়ে একটি অনুরূপ মামলায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। হাওয়াই সুপ্রিম কোর্ট ২০২৩ সালে এটিকে এগিয়ে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে, যেখানে বিচারপতি টড এডিন্স ‘আলোহা স্পিরিট’ উল্লেখ করে ফেডারেল নজির উপেক্ষা করেছেন। রোড আইল্যান্ডে একজন বিচারপতি এই মামলাকে কেনিয়া, তানজানিয়া এবং সেশেলসের মতো উন্নয়নশীল দেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে তুলনা করেছেন, যা সমালোচকদের মতে আইনি ভিত্তির অভাব দেখায়।
লুইজিয়ানায় চেভরনের বিরুদ্ধে একটি মামলায় ৭৫০ মিলিয়ন ডলারের (সুদসহ ১ বিলিয়নেরও বেশি) রায় দেওয়া হয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন তেল নিষ্কাশনের জন্য উপকূলীয় ক্ষয়ের অভিযোগে। এই কোম্পানিগুলো তখন ফেডারেল চুক্তির অধীনে যুদ্ধের জন্য জ্বালানি সরবরাহ করছিল। পঞ্চম ইউএস সার্কিট কোর্ট অফ অ্যাপিলস এই মামলাকে ফেডারেল আদালতে স্থানান্তরের অনুমতি দেয়নি, কিন্তু বিচারপতি অ্যান্ড্রু ওল্ডহ্যামের ভিন্নমত জাতীয় প্রতিরক্ষার খরচ বাড়াবে বলে সতর্ক করেছে। সুপ্রিম কোর্ট এই সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করবে।
আইনি প্রতিরোধ: কিছু রাজ্য আদালত ‘না’ বলছে
যদিও কিছু অ্যাকটিভিস্ট বিচারক এই মামলাগুলোকে সমর্থন করছেন, তবু অনেক রাজ্য আদালত প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। ম্যারিল্যান্ডে বাল্টিমোরের মামলা খারিজ করা হয়েছে, যেখানে দাবি করা হয়েছিল ফসিল ফুয়েল সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়িয়েছে। ম্যারিল্যান্ড সুপ্রিম কোর্ট অক্টোবরে এর আপিল শুনবে। দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় একটি আদালত অনুরূপ মামলা খারিজ করেছে, যা জলবায়ু আইনি যুদ্ধের বিরুদ্ধে একটি বড় ধাক্কা।
প্রবন্ধে বলা হয়েছে, পরিবেশবাদীরা ট্রাম্প প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ হ্রাসের পর এই আইনি পথ বেছে নিয়েছে, যা ইপিএ-কে পাইপলাইন ব্লক এবং ভূতত্ত্ব বিভাগকে তেল-গ্যাস লিজ অস্বীকার করতে বাধ্য করেছিল। এখন তারা দেউলিয়া শহর এবং ট্রায়াল লয়ারদের সাথে মিলে শক্তি শিল্প থেকে অর্থ আদায় করছে।
সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকা: জাতীয় নীতির সুরক্ষা
লেখক মনে করেন, সুপ্রিম কোর্টকে এই মামলাগুলোর বিরুদ্ধে ফেডারেল কর্তৃত্ব পুনঃস্থাপন করতে হবে। এটি না করলে রাজ্যগুলো জাতীয় শক্তি এবং পরিবেশ নীতি নিয়ন্ত্রণ করবে, যা যুদ্ধকালীন চুক্তি থেকে শুরু করে ভবিষ্যতের জাতীয় প্রতিরক্ষা খরচ বাড়াবে। এই আইনি যুদ্ধ শক্তি শিল্পকে দুর্বল করে দেবে এবং আমেরিকার অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
এই বিতর্ক জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই এবং শক্তি শিল্পের অধিকারের মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে চলছে। সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত এই যুদ্ধের দিক নির্ধারণ করতে পারে।


