নয়াদিল্লি: সুপ্রিম কোর্টে চিফ জাস্টিস বিআর গাভাইয়ের দিকে জুতো ছুড়ে মারার ঘটনায় এআইআইএম-এর প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়াইসি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। “যদি অভিযুক্তের নাম রাকেশ না হয়ে আসাদ হতো, তাহলে দিল্লি পুলিশ কী করতো?” – এই প্রশ্ন তুলে তিনি পুলিশের ‘পক্ষপাতমূলক’ আচরণের সমালোচনা করেছেন। এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক ও বিচারিক ব্যবস্থায় নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
কী ঘটলো সুপ্রিম কোর্টে? এক নজরে
- ঘটনার সারাংশ: সোমবার সকালে আইনজীবী রাকেশ কিশোর চিফ জাস্টিসের দিকে জুতো ছুড়ে মারেন এবং চিৎকার করেন, “ভারত সনাতন ধর্মের অপমান সহ্য করবে না!”
- পুলিশের প্রতিক্রিয়া: অভিযোগ না করায় চিফ জাস্টিসের নির্দেশে কিশোরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এমনকি জুতোটিও ফেরত দেওয়া হয়!
- ওয়াইসির কটাক্ষ: বুধবার তিনি বলেন, “দিল্লি পুলিশ ইউএপিএ (আনলঅল অ্যাকটিভিটিজ প্রিভেনশন অ্যাক্ট) কেন প্রয়োগ করেনি? যদি নাম আসাদ হতো, তাহলে বিজেপি তাকে পাকিস্তানের সাথে যুক্ত করে ফেলতো!”
এই ঘটনা চিফ জাস্টিসের একটি সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর ঘটে, যেখানে তিনি লর্ড বিষ্ণুর মূর্তি পুনর্নির্মাণের বিচারিক হস্তক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলেন, “দেবতাকে নিজে কিছু করতে বলুন।” এই কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। পরে চিফ জাস্টিস স্পষ্ট করেন, “আমি সকল ধর্মের প্রতি সম্মান করি।”
রাকেশ কিশোর কে? কেন করলেন এমন?
- পটভূমি: কিশোর একজন অভিজ্ঞ আইনজীবী। তিনি দাবি করেছেন, “আমি এটা করিনি, ঈশ্বর করেছেন। চিফ জাস্টিস সনাতন ধর্মের উপহাস করেছেন।” তিনি তার কাজের জন্য কোনো অনুতাপ প্রকাশ করেননি।
- ঘটনার পর: জুতো চিফ জাস্টিসের কাছে পৌঁছায়নি। নিরাপত্তা কর্মীরা তাকে দ্রুত সরিয়ে নেয়। চিফ জাস্টিস বলেন, “আমি এমন জিনিস দিয়ে প্রভাবিত হই না।”
ওয়াইসি, যিনি বিহার বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, মসজিদ-সম্পর্কিত সাম্প্রতিক রায়ের উল্লেখ করে বলেন, “আমরা তো জুতো তোলিনি!” এই ঘটনা দলিত সম্প্রদায়ের মধ্যেও ক্ষোভ জাগিয়েছে। ওয়াইসি জিজ্ঞাসা করেছেন, “একজন দলিত চিফ জাস্টিসের দিকে জুতো ছোড়া কীভাবে সম্ভব?”
কেন এই ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ?
- রাজনৈতিক প্রভাব: বিজেপি-নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে পুলিশের ‘দ্বিমুখী’ আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
- বিচারিক স্বাধীনতা: আদালতের নিরাপত্তা ও বিচারের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিতর্ক চলছে।
- সামাজিক মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া: #JusticeForAsad হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ড করছে।
আপডেট: এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের খবর নেই। বিজেপি ও এআইআইএম-এর মধ্যে রাজনৈতিক সংঘর্ষ বাড়তে পারে।


