পশ্চিমবঙ্গের বাজারে আলুর দামের ওঠানামা সবসময়ই গৃহিণীদের মুখে হাসি-কান্নার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আজকের তারিখে (২০ সেপ্টেম্বর) রাজ্যের বিভিন্ন মণ্ডিতে আলুর গড় মূল্য কেজি প্রতি ১৩-১৪ টাকার মধ্যে রয়েছে, যা গত সপ্তাহের তুলনায় সামান্য স্থিতিশীল। কিন্তু কাল, অর্থাৎ ২১ সেপ্টেম্বর, বাজারে কী পরিবর্তন আসতে পারে? বিশেষজ্ঞদের মতে, সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকলে দামে খুব বড় পরিবর্তন নাও হতে পারে, তবে কিছু জেলায় সামান্য ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিতে পারে।
বর্তমান বাজারের স্থিতি
পশ্চিমবঙ্গ ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম আলু উৎপাদনকারী রাজ্য, যেখানে বার্ষিক উৎপাদন প্রায় ১২ মিলিয়ন টন। এবারের ফসলও ভালো হয়েছে, বিশেষ করে হুগলি এবং মেদিনীপুর অঞ্চলে। কমোডিটি অনলাইনের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মেদিনীপুর (ওয়েস্ট) মণ্ডিতে আলুর দাম কেজি প্রতি ১৩.০৬ টাকা (প্রতি কুয়িনটাল ১৩০৬ টাকা)। রাজ্যের গড় মূল্য প্রতি কুয়িনটাল ১৩০৯ টাকা, যার মধ্যে সর্বনিম্ন ১০৫০ টাকা (জঙ্গিপুর) এবং সর্বোচ্চ ৩৭০০ টাকা (কর্সিয়াং-মাটিগাড়া)। খুচরা বাজারে এই দাম কেজি প্রতি ১৫-১৮ টাকায় পৌঁছায়।
| জেলা/মণ্ডি | গড় দাম (প্রতি কেজি) | সর্বনিম্ন দাম | সর্বোচ্চ দাম |
| মেদিনীপুর (ওয়েস্ট) | ১৩.০৬ টাকা | ১০.৫০ টাকা | ২৪.০০ টাকা |
| কলকাতা (খুচরা) | ১৫-১৬ টাকা | ১৪ টাকা | ১৮ টাকা |
| জঙ্গিপুর | ১১.৫০ টাকা | ১০.৫০ টাকা | ১২.৫০ টাকা |
| করসিয়াং (মাটিগাড়া) | ৩৭ টাকা | ৩০ টাকা | ৫০ টাকা |
(সূত্র: কমোডিটি অনলাইন এবং কিসান ডিলস, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত)
কালকের সম্ভাব্য দাম এবং প্রভাবকারী কারণ
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কালকের দাম ১৩-১৫ টাকা কেজি (মণ্ডি মূল্য) এর মধ্যে থাকতে পারে। কলকাতার খুচরা বাজারে এটি ১৬-১৯ টাকায় পৌঁছাতে পারে। এর কয়েকটি কারণ:
- সরবরাহের অবস্থা: সেপ্টেম্বর মাসে নতুন ফসলের প্রবেশের সাথে সাথে স্টক ভালো রয়েছে। তবে, বর্ষার অবসানের পর পরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক হলে দাম স্থিতিশীল থাকবে। যদি কোনো অঞ্চলে বন্যা বা বৃষ্টির প্রভাব পড়ে, তাহলে উত্তরবঙ্গের দাম ১-২ টাকা বাড়তে পারে।
- চাহিদা: দুর্গাপূজার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে, যা আলুর চাহিদা বাড়াতে পারে। বিশেষ করে প্রসেসড ফুড এবং হোটেলগুলোতে। গত বছরের তুলনায় উৎপাদন ১০% কম হলেও (৫৮.৯৯ মিলিয়ন টন জাতীয়ভাবে), বাংলার হুগলি অঞ্চলের ভালো ফলন এটি ভারসাম্য করেছে।
- বাজার প্রবণতা: গত সপ্তাহে দাম স্থিতিশীল ছিল, কিন্তু অক্টোবরের দিকে দাম ২০-২১ টাকায় উঠতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। বর্তমানে লেবার শর্টেজ নেই, যা দাম নিয়ন্ত্রণে রাখছে।
পশ্চিমবঙ্গ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সদস্য পতিত পাবন দে বলেছেন, “এবারের উৎপাদন ১০% কম হলেও, হুগলির ফলন এটি কভার করেছে। কালকের দামে বড় পরিবর্তন নাও হতে পারে, তবে চাহিদা বাড়লে সামান্য ঊর্ধ্বমুখী হবে।”
কৃষক এবং ভোক্তাদের জন্য টিপস
- কৃষকদের জন্য: যদি আপনি আলু বিক্রি করছেন, তাহলে স্থানীয় মণ্ডি যাওয়ার পরিবর্তে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম (যেমন কিসান ডিলস) ব্যবহার করুন। এতে ভালো দাম পাওয়া যায়।
- ভোক্তাদের জন্য: বাজারে যাওয়ার আগে স্থানীয় মণ্ডির দাম চেক করুন। বড় পরিমাণে কিনলে ডিসকাউন্ট পাওয়া যায়। এছাড়া, জয়তি জাতের আলু বেছে নিন, যা দামে সস্তা এবং স্থায়ী।
সামগ্রিকভাবে, কালকের বাজার স্থিতিশীল থাকলেও, দুর্গাপূজার আগে দামে সামান্য বৃদ্ধি সম্ভব। আরও আপডেটের জন্য কমোডিটি অনলাইন বা স্থানীয় বাজার অ্যাপ চেক করুন। আপনার বাজারের অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন কমেন্টে!


