নাগাল্যান্ডের মন জেলার ওকচিং অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির কারণে জওহর নবোদয় বিদ্যালয়ের প্রধান পথটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, বৃষ্টির জলের তাড়ে মাটি ধসে যাওয়ায় এই পথটি ব্যবহারযোগ্য হয়ে ওঠেনি, ফলে স্কুলে যানবাহনের যাতায়াত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এই কঠিন পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তজবের সিংহের নেতৃত্বে প্রিন্সিপালস ট্রেনিং সেন্টার (পিটিসি) সদস্য ও স্থানীয় গ্রামবাসীদের একটি সংযুক্ত প্রচেষ্টা চালু হয়, যার ফলে পথটি পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু হয়।
ঘটনার বিবরণ
গত কয়েক দিন ধরে নাগাল্যান্ডে অবিরাম বৃষ্টি পড়ছে, যা পাহাড়ি এলাকায় মাটির ধস নিয়ে এসেছে। সোমবার সকালে জেএনভি ওকচিং-এর প্রধান পথটি বৃষ্টির পানিতে ভাঙচুর হয়ে যায়। ছবি দেখে মনে হচ্ছে, গ্রামবাসীরা হাতে-কোটা যন্ত্রপাতি নিয়ে পথ মেরামতের কাজে নেমে পড়েছেন। কিছু ব্যক্তি মাটি পরিষ্কার করছেন, অন্যরা পাথর সাজিয়ে পথটিকে স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন। এই দৃশ্যটি স্থানীয় সম্প্রদায়ের একতা ও সংকটের মুখে সাহায্যের হাত বাড়ানোর উদাহরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
প্রধান শিক্ষক তজবের সিংহ বলেন, “আমরা এই পরিস্থিতিতে একা নয়, আমাদের পারিবারিক সদস্য ও গ্রামবাসীরা আমাদের পাশে রয়েছে। তাদের এই সহযোগিতা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আরও জানান যে, এই প্রচেষ্টা শুধুমাত্র পথ মেরামতের জন্য নয়, বরং ভবিষ্যতে এই ধরনের দুর্যোগের জন্য প্রস্তুতির জন্যও একটি পদক্ষেপ।
বৃহত্তর প্রেক্ষাপট
ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে এই বছর মনসূন অস্বাভাবিকভাবে তীব্র হয়ে উঠেছে। ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের (আইএমডি) তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে উত্তর ভারতে ১৮০% অতিরিক্ত বৃষ্টি হয়েছে, যা পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও রাজস্থানে বন্যা এনে দিয়েছে। নাগাল্যান্ডের মতো পাহাড়ি এলাকায় এই বৃষ্টি মাটির ধস ও ভূ-লঙ্ঘনের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে। জিওলজিকাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার ২০২৩ সালের একটি রিপোর্ট অনুসারে, মনসূনের সময় পাহাড়ি রাস্তাগুলো বিশেষভাবে ভাঙচুরের শিকার হয়।
একইভাবে, ইন্ডিয়া টুডে (২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫) জানিয়েছে যে, জম্মু ও কাশ্মীর ও উত্তরাখণ্ডে বন্যার কারণে ৫০ এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং ব্যাপক ভাবে অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। ওকচিং-এর এই ঘটনাও এই বৃহত্তর প্রেক্ষাপটের একটি অংশ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
সম্প্রদায়ের ভূমিকা
এই মেরামত কাজে পিটিসি সদস্য ও গ্রামবাসীদের অংশগ্রহণ ব্যতিক্রমী। তজবের সিংহের অনুরোধে এই দলটি দ্রুত কাজ শুরু করে, যা প্রমাণ করে যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নতি ও সংরক্ষণে পিতা-মাতা ও অভিভাবকরা সত্যিকারের শক্তি। এই ঘটনা শুধুমাত্র একটি স্থানীয় সমাধান নয়, বরং দুর্যোগের সময় সাম্প্রদায়িক সহযোগিতার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।
ভবিষ্যতের প্রস্তুতি
ওকচিং-এর এই প্রচেষ্টা থেকে শিক্ষা নিয়ে নাগাল্যান্ড সরকার ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গড়ে তুলতে পারে। পাহাড়ি এলাকায় রাস্তা নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে আরও শক্তিশালী পদ্ধতি প্রয়োজন, যা বন্যা ও মাটির ধসের ক্ষতি কমাতে সাহায্য করবে।
জেএনভি ওকচিং-এর এই ঘটনা একটি কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে আশার আলো দেখিয়ে দিয়েছে। গ্রামবাসী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে পথ মেরামতের কাজটি শুধু একটি ব্যবহারযোগ্য সমাধানই নয়, বরং সম্প্রদায়ের শক্তির প্রমাণ। নাগাল্যান্ডের এই দৃষ্টান্তটি সমগ্র ভারতের জন্য একটি শিক্ষণীয় পাঠ হতে পারে।


