আবহাওয়া ভারত প্রযুক্তি বিনোদন বিদেশ খেলা শেয়ার বাজার

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাইওয়ানের বৃহত্তম বিরোধী দল এর সাথে বৈঠক

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাইওয়ানের বৃহত্তম বিরোধী দল কুওমিনতাং (কেএমটি)-এর চেয়ারপারসন চেং লি-উনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে শি জিনপিং স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, চীন তাইওয়ানের স্বাধীনতা “কোনোভাবেই সহ্য করবে না” এবং এটি তাইওয়ান প্রণালীতে শান্তি নষ্টের প্রধান কারণ।

গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে শি জিনপিং বলেন, “তাইওয়ান প্রণালীর উভয় পাড়ের স্বজনরা সবাই চীনা—একই পরিবারের সদস্য, যারা শান্তি, উন্নয়ন, বিনিময় ও সহযোগিতা চায়।” তিনি আরও যোগ করেন, “পরিবার যখন সুসম্পর্কে থাকে, তখন সবকিছু সমৃদ্ধ হয়। তাইওয়ানের স্বাধীনতা তাইওয়ান প্রণালীতে শান্তি নষ্টের প্রধান অপরাধী—আমরা এটাকে কোনোভাবেই সহ্য বা অনুমোদন করব না।”

চেং লি-উন এই সফরকে “শান্তি মিশন” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি চীনে এসেছেন উত্তেজনা কমাতে। চেং শি জিনপিংকে বলেন, উভয় পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক লাভজনক সম্পর্কই দুই পাড়ের জনগণের আকাঙ্ক্ষা। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ভবিষ্যতে একদিন তিনি তাইওয়ানে শি জিনপিংকে স্বাগত জানাতে পারবেন। চেং আরও বলেন, তাইওয়ান প্রণালীকে বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপের “দাবার ছক” হতে দেওয়া উচিত নয়। উভয় পক্ষের মধ্যে সংলাপ ও সহযোগিতার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ও টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তোলা উচিত।

কেএমটি চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পক্ষপাতী। দলটি একসময় সমগ্র চীন শাসন করত। ১৯৪৯ সালের গৃহযুদ্ধের পর তারা তাইওয়ানে চলে আসে। চীন তাইওয়ানকে নিজের অংশ বলে দাবি করে এবং “এক চীন” নীতির ওপর জোর দেয়। বর্তমান তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে-এর সরকারের সঙ্গে চীন কোনো আলোচনায় রাজি নয়, তাকে “বিচ্ছিন্নতাবাদী” বলে অভিহিত করেছে।

চেং-এর এই সফরকে তাইওয়ানের ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক প্রোগ্রেসিভ পার্টি (ডিপিপি) সমালোচনা করেছে। দলের সাধারণ সম্পাদক হসু কো-ইয়ুং বলেন, চেং চীনে থাকাকালীন তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব আটকে রাখা কেএমটির জন্য “শি জিনপিংকে বড় উপহার” দেওয়ার মতো।

চীন-তাইওয়ান সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনাপূর্ণ। কোনো শান্তি চুক্তি বা যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষরিত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী এবং সমর্থক। বেইজিং ওয়াশিংটনকে তাইওয়ানকে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করার দাবি জানিয়ে আসছে। এই বৈঠক চীন-তাইওয়ান সম্পর্কে নতুন করে আলোচনার সূচনা করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে, যদিও তাইওয়ানের বর্তমান সরকারের সঙ্গে চীনের অবস্থান এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে।

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.