ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত মিয়ানমারের উপকূল এবং সংলগ্ন পূর্ব-মধ্য ও উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি ডিপ্রেশন সক্রিয় রয়েছে। গত কয়েক ঘণ্টায় এটি উত্তর-উত্তর-পশ্চিম দিকে দ্রুত এগিয়েছে এবং বর্তমানে মিয়ানমারের মিনবু-র কাছে অবস্থান করছে।
পরবর্তী ১২ ঘণ্টায় কী হবে?
IMD জানিয়েছে, আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে এই ডিপ্রেশন দুর্বল হয়ে সুস্পষ্ট নিম্নচাপ (Well Marked Low Pressure Area)-এ পরিণত হবে। এরপর এটি দক্ষিণ-পূর্ব বাংলাদেশের দিকে এগোতে এগোতে আরও দুর্বল হবে।
কোন কোন রাজ্যে বৃষ্টির সতর্কতা?
এই ডিপ্রেশনের প্রভাবে ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর উত্তর-পূর্ব ভারতের এই রাজ্যগুলিতে বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে:
- অসম
- মেঘালয়
- নাগাল্যান্ড
- মিজোরাম
- ত্রিপুরা
এসব জায়গায় বহু স্থানে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে, কিছু জায়গায় হতে পারে ভারী বৃষ্টি।
ঝোড়ো হাওয়া ও উত্তাল সমুদ্র
বঙ্গোপসাগরের পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব অংশে এবং মিয়ানমার-বাংলাদেশ উপকূলের কাছে ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। তবে এই হাওয়ার গতি ধীরে ধীরে কমবে। কিছুক্ষণ সমুদ্র উত্তাল থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।
মৎস্যজীবীদের জন্য সতর্কবার্তা
- ২৯ সেপ্টেম্বর: পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর এবং মিয়ানমার উপকূলের কাছে সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ।
- ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল পর্যন্ত: উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং বাংলাদেশ-মিয়ানমার উপকূল এলাকায় মাছ ধরতে না যাওয়ার নির্দেশ।
সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, এই পরিস্থিতিতে গাছের ডালপালা ভেঙে পড়া, ছোট ফসলের ক্ষতি, নিচু এলাকায় জল জমা এবং পাহাড়ি অঞ্চলে স্থানীয়ভাবে ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে।
সাধারণ মানুষ কী করবেন?
- আবহাওয়া দফতরের নিয়মিত আপডেটের দিকে নজর রাখুন।
- নিচু এলাকা ও পাহাড়ি ঢালে থাকলে বাড়তি সতর্ক থাকুন।
- প্রয়োজন ছাড়া সমুদ্রে যাবেন না।
IMD-র ওয়েবসাইটে কী পাবেন?
IMD-র অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে ঘূর্ণিঝড় সংক্রান্ত একটি আলাদা পেজ রয়েছে। সেখানে ট্রপিক্যাল ওয়েদার আউটলুক, ন্যাশনাল বুলেটিন (ইংরেজি ও হিন্দিতে), ঘণ্টাভিত্তিক বুলেটিন, সিস্টেমের ট্র্যাক, বাতাস ও ঝড়ের ঢেউয়ের সতর্কতা এবং ইন্টারঅ্যাক্টিভ ট্র্যাক দেখা যায়। পুরনো রিপোর্টও সেখানে পাওয়া যায়।


