কেরালার এরনাকুলাম আদালত সোমবার (৮ ডিসেম্বর ২০২৫) মালায়ালামের সুপারস্টার দিলিপকে ২০১৭ সালের চাঞ্চল্যকর অভিনেত্রী অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় সম্পূর্ণ খালাস দিয়েছে। ৮ বছরের দীর্ঘ বিচার শেষে বিচারক হানি এম ভার্গিস জানিয়েছেন, দিলিপের বিরুদ্ধে আনা ষড়যন্ত্র, গণধর্ষণ, অপহরণ ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। একই মামলায় অন্য ছ’জন অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে, তাদের সাজা ১২ ডিসেম্বর ঘোষণা হবে।
রায় ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কেরালা সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে – এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করা হবে। আইনমন্ত্রী পি রাজিভ বলেছেন, “সারভাইভার পুরোপুরি ন্যায় পাননি। প্রসিকিউশনের তরফে যে প্রমাণ উপস্থাপিত হয়েছিল, তাতে আমরা আত্মবিশ্বাসী যে হাইকোর্টে ভিন্ন ফল আসবে।” মুখ্যমন্ত্রী ও ডিজিপি-র সঙ্গে জরুরি বৈঠকের পর দ্রুত আপিল ফাইল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের বাইরে দিলিপ সমর্থকদের উল্লাসের মধ্যেই তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে একটা বিশাল ষড়যন্ত্র হয়েছিল। আসল ভিকটিম আমি। এই মামলা আমার কেরিয়ার, পরিবার আর মানসম্মান শেষ করতে চেয়েছিল। আজ সত্যের জয় হয়েছে।” কিন্তু যে অভিনেত্রী ৮ বছর ধরে লড়ছেন, তিনি এখনো নীরব। ২০২২ সালে নিজের নাম প্রকাশ করে তিনি বলেছিলেন, “আমি নরক থেকে ফিরে এসেছি। ভিকটিম থেকে সারভাইভার হওয়া সহজ ছিল না।”
এই রায় কেরালার ফিল্ম জগতের অন্ধকার দিক আবার সামনে এনেছে। হেমা কমিটির রিপোর্টে বলা হয়েছে, শক্তিশালী পুরুষদের ‘মাফিয়া’ ইন্ডাস্ট্রি নিয়ন্ত্রণ করে এবং মহিলারা প্রতিনিয়ত যৌন হয়রানির শিকার। আদালত দিলিপকে ছেড়ে দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু সারভাইভারের লড়াই এখানেই শেষ নয় – এবার তা হাইকোর্টের দরজায় পৌঁছে গেছে। ন্যায়ের চূড়ান্ত পরীক্ষা এখনো বাকি।
Source: link


