ইরান-সমর্থিত হেজবোল্লাহ গোষ্ঠী লেবানন সরকারের ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার সিদ্ধান্তকে ‘জাতীয় পাপ’ বলে নিন্দা করেছে। তারা বলেছে, এই পদক্ষেপ লেবাননের অভ্যন্তরীণ বিভেদকে আরও গভীর করবে।
হেজবোল্লাহর আইনপ্রণেতা হাসান ফাদলাল্লাহ মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবাননের রাষ্ট্রদূত ও ইসরায়েলি প্রতিনিধির মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, এই আলোচনা লেবাননের জাতীয় পরিচয় বা জনগণের পছন্দকে প্রতিফলিত করে না।
ফাদলাল্লাহ বলেন, “সরকার কি বুঝতে পারছে না যে তারা কী বিপজ্জনক কাজ করছে? এটি একটি ভুল পথ যা শুধু লেবানিজদের মধ্যে বিভেদ বাড়াবে।”
পটভূমি
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দশকের পর দশক পর প্রথমবারের মতো লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি আলোচনা হয়। তবে ইসরায়েল আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে এই বৈঠকে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আলোচনা হবে না।
ইসরায়েল গত ২ মার্চ থেকে লেবাননে অভিযান চালাচ্ছে, যা হেজবোল্লাহর ইরান-সমর্থিত হামলার জবাবে শুরু হয়। লেবাননের কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুসারে, এতে ২,০০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং ১২ লাখেরও বেশি মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি
ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা আজ বুধবার লেবাননের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করবে বলে জানা গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী বক্তব্য দিয়েছেন এবং ইসরায়েলকে লেবাননে হামলা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। হেজবোল্লাহর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইব্রাহিম আল-মুসাভি বলেছেন, ইরান ও অন্যান্য আঞ্চলিক দেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় শিগগিরই যুদ্ধবিরতি হতে পারে।
লেবাননে গভীর বিভক্তি
হেজবোল্লাহর এই তীব্র প্রতিক্রিয়া লেবাননের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভেদকে তুলে ধরেছে। একদিকে সরকার কূটনৈতিক পথে সংকট মোকাবিলা করতে চাইছে, অন্যদিকে হেজবোল্লাহ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে। এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর সংঘাতের (ইসরায়েল-ইরান-হেজবোল্লাহ) অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।সূত্র: রয়টার্স, আরব নিউজ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক মিডিয়া।



Leave a Comment